আব্দুর রউফ সেলিম \
হবিগঞ্জ শহরে চলছে পুকুর ভরাটের মহোৎসব। একের পর এক
পুকুর ভরাট ও দখল করে নিচ্ছে চিহ্নিত এক শ্রেণীর ভূমি খেকো। কোর্ট পুকুর ও
পুরান মুন্সেফী বড় পুকুরের পর চৌধুরী বাজার এলাকার ঐতিহ্যবাহী নায়েবের পুকুরটিও
এবার পড়েছে দখলের কবলে। এলাকাবাসীর প্রতিবাদ সত্তে¡ও পুকুরপাড়ে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে দোকানপাট। এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের
নির্দেশনাকেও তোয়াক্কা করছে না দখলবাজরা। ফলে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের
ভারসাম্য অপর দিকে বাড়ছে অগ্নিকান্ডসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পানি ব্যবহারের ঝুঁকি। জানা যায়, শহরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে প্রাচীন অনেক ঐতিহ্যবাহী পুকুর। এ সব পুকুর অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নিত্য প্রয়োজনীয় পানি ব্যবহারের চাহিদা পুরণসহ বিভিন্ন পর্যায়ে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে পুকুরগুলো অনেকটা অরক্ষিত হয়ে পড়ায় এর উপর কু-নজর পড়ে কতিপয় প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহলের। স¤প্রতি এরা ছলে-বলে, কৌশলে পুকুরগুলো কোথাও ভরাট করে আবার কোথাও পুকুরপাড়ে দোকানপাট উঠিয়ে তা দখলের পায়তারা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কোর্ট পুকুর ও পুরান মুন্সেফী পুকুরের পর এবার চৌধুরী বাজার এলাকার ঐতিহ্যবাহী নায়েবে পুকুরপাড়ে বাসা-বাড়ি ও দোকানপাট উঠিয়ে তা দখল করে নিয়েছে কতিপয় ভূমিখেকো। এখানে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে প্রতাবপুরের ধলাই মিয়ার দোকান, হুমায়ূন মিয়া ও বাবুল দেবের বাসা এবং আইয়ূব আলীর ওয়ার্কসপসহ অনেক দোকান-পাট। ওয়ার্কসপটির কারণে প্রচন্ড দৃষ্টি ও শব্দ দূষণের কবলে পড়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলেও কর্ণপাত করেনি দখলবাজরা। পরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পৌর মেয়রের বরাবরে দেয়া হয় একটি লিখিত অভিযোগ। এরই প্রেক্ষিতে পৌর কর্তৃপক্ষের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ ভাবে নির্মিত আইয়ূব আলীর মালিকানাধীন ওয়ার্কসপটি বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাকেও পাত্তা দিচ্ছেননা ওয়ার্কসপটির মালিক আইয়ূব আলী। দিব্যি ওয়ার্কসপটি এখনও খোলা রেখেছেন তিনি। ফলে এলাকাবাসী শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন পুকুরটির ভবিষ্যত নিয়ে। উল্লেখ্য, চৌধুরী বাজার ও ডাকঘর এলাকার অনাকাঙ্খিত অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণে নায়েবে পুকুরটিই একমাত্র পানির উৎস। কোন কারণে পুকুরটি দখলদারদের কবলে ভরাট হয়ে গেলে মারাত্মক অগ্নিকান্ডের ঝুকিতে পড়বেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি দেখা দেবে নিত্য ব্যবহার্য পানির সংকট। তাছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশংকা তো থেকেই যায়। এ বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।