ভুল চিকিৎসায়নয় ক্যান্সারই মৃত্যুর কারণ ॥ সুরাবই গ্রামে কিশোর আকাশের মৃত্যুকে ঘিরে কুচক্রি মহলের অবৈধ ফায়দা হাসিলের চেষ্টা
তারিখ: ১৯-মে-২০১৭
জাকারিয়া চৌধুরী, সুরাবই থেকে ফিরে ॥

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুতাং সুরাবই এলাকায় কিশোর আকাশের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে একটি মহল অবৈধ ভাবে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছে। আর স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে বিভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও চালাচ্ছে তারা। এলাকাবাসি জানায়, কিশোর আকাশের ভুল চিকিৎসায়নয় বরং ব্লাড ক্যান্সারে দীর্ঘদিন আক্রান্ত থাকার পর মৃত্যু হয়েছে তার। আকাশ সুরাবই মোকামবাড়ির গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে সুরাবই এলাকা ঘুরে জানা যায়, প্রায় ৬ মাস ধরে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে ভূগছিলেন কিশোর আকাশ। কিন্তু তার ক্যান্সার হয়েছে এটা বুঝতে পারেনি আকাশের হতদরিদ্র পরিবার। প্রায় সময়ই তার দাতের বিভিন্ন স্থান দিয়ে রক্ত বেড় হত। যা নিয়ে আকাশকে ওই এলাকার বিভিন্ন ডাক্তারকেও দেখানো হয়। সবশেষ গত প্রায় ২০/২৫ দিন আগে সুরাবই বাজারে ডাঃ বিলাল হোসেন কে দেখান তার পরিবার। এসময় ডাক্তার বিলাল তার অবস্তা দেখে প্রাথমিক চিকিৎসাদিয়ে তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরের দিন তারা আকাশকে আবার ডাঃ আলী আহসান চৌধুরী পিন্টু’র কাছে নিয়ে গেলে তিনিও তার চিকিৎসাকরেন। এর পর ওই দিন বিকেলেই আকাশকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে ২ দিন চিকিৎসাকরানো হয়। তার পর তার দাতের রক্তকরণ বন্ধ না হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকতাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। যার সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা হয় “এ্যানকন্ট্রলেড ডেন্ট্রাল ব্লেডিং”। পরিবর্তীতে তারা তাকে ওসমানীতে ভর্তি না করে তাকে জরুরী চিকিৎসারজন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিশু হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।সেখানেও তাকে ১ দিন চিকিৎসাদিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে তার পিতা-মাতা। তখন চিকিৎসাধীনঅবস্থায় ডাক্তার আকাশকে প্রতি মাসে ব্লাড প্রদানের নির্দেশ দেন। কিন্তু তার পিতা-মাতা সেটা না করে বাড়িতে বিনা চিকিৎসায়রেখে দেন। পরে আকাশকে রক্ত না দেওয়ায় ধুকতে ধুকতে তার সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। এদিকে, এ মৃত্যুর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে ওই এলাকারই একটি অবৈধ ফায়দা হাসিল মহল চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ওই এলাকার সর্দার ও প্রত্যেক্ষদর্শী শাহজাহান তালুকদার জানায়, কিশোর আকাশকে কোন অপচিকিৎসাকরানো হয়। বরং একটি মহল ডাঃ বিলালকে ফাসাতে এবং তার কাছ থেকে অবৈধ ফায়দা হাসিল করতেই এ নাটক সাজিয়েছে।

বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুছ জানান, ডাঃ বিলাল দীর্ঘদিন যাবত সুনাম ও দক্ষতার সাথে আমাদের এলাকায় ডাক্তারী করে আসছে। এটি তার বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইসলাম উদ্দিন জানান, ভুল চিকিৎসানয় বরং আকাশের পরিবারের অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। বিল্লাল বিরহী নামে অপর আরেক ব্যবসায়ী জানান, এটি ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়। অথচ ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রভাভিত করে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ পত্রে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আকাশের পিতা ফজলু মিয়া জানায়, এটি আমার কপাল। কপালে ছিল তাই আমার ছেলে এত কম বয়সে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। তবে কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে তা এড়িয়ে যান। অপরদিকে, আকাশের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মামলায় বাদি না হয়ে তার দাদা বাদি হওয়ায় তা নিয়েও এলাকায় গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিষয়টি সঠিক ভাবে তদন্ত ও ডাক্তার বিলালকে যাতে পুলিশী হয়রাণি না করা হয় সে জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়েছে।

প্রথম পাতা