অজ্ঞাত স্থানে রেখে নির্যাতন ॥ প্রাণনাশের আশংকা ॥ বাহুবলে স্ত্রীকে ফিরে পেতে আদালত পাড়া ও সমাজপতিদের দ্বারে অসহায় স্বামীর ঘুরপাক
তারিখ: ৭-ডিসেম্বর-২০১৮
স্টাফ রিপোর্টার ॥

বাহুবলে স্ত্রীকে ফিরে পেতে আদালত পাড়া ও সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ফারুক মিয়া নামে অসহায় এক স্বামী। তার অভিযোগ, স্ত্রীকে অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থানে রেখে চালানো হচ্ছে অমানষিক নির্যাতন। এ অবস্থায় স্ত্রীর প্রাণনাশের আশংকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর রাজধানীর ঢাকার শনির আখড়াস্থ ভাড়া বাসা থেকে নিখোঁজ হন ইষিকা হান্নান জোসনা নামে এক গৃহবধু। এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন জোসনার স্বামী ফারুক মিয়া। মামলায় বাহুবল উপজেলার আব্দুল্লাপুর গ্রামের আশ্রব আলীর পুত্র মোঃ মুহিউদ্দিন এবং একই উপজেলার বিহারীপুর গ্রামের আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগমকে আসামী করা হয়। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে ফারুক মিয়া অভিযোগ করে জানান, উল্লেখিত দিনে তার অনুপস্থিতে জোসনাকে ঢাকাস্থ ভাড়া বাসা থেকে কৌশলে অপহরণ করে তার সাবেক স্বামী মুহিউদ্দিন। এ কাজে প্রলোভনে পড়ে মুহিউদ্দিনকে সহযোগিতা করেন জোসনার পিতা আব্দুল হান্নান ও মাতা ফরিদা বেগম। ফারুক মিয়া আবেগ আপ্লুত কন্ঠে আরো বলেন, “অপহরণকারীরা আমার স্ত্রীকে অজ্ঞাত স্থানে রেখে নিশ্চয়ই অমানুষিক নির্যাতন করছে। আমি তার প্রাণনাশের আশংকা করছি”। তিনি বলেন, “ঘটনার প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমি এ বিষয়ে প্রশাসন, আদালতসহ সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরপাক খাচ্ছি। কিন্ত কোন কুল-কিনারা পাচ্ছিনা। অপহরনকারীরা আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এ অবস্থায় আমি আমার স্ত্রীকে জীবিত ফিরে পেতে সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি”।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাহুবল উপজেলার বিহারীপুর গ্রামের ব্যাংকার মোঃ আব্দুল হান্নানের কন্যা ইষিকা হান্নান জোসনাকে পারবিারিক সম্মতিতে ভালবেসে বিয়ে করেন একই উপজেলার পূর্ব জয়পুর গ্রামের মোঃ মকসুদ মিয়ার পুত্র বালু ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক মিয়া। বিয়ের পর ব্যবসায়ীক কারনে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানী ঢাকার শনির আখড়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন। গত ২৫ অক্টোবর ওই ভাড়া বাসা থেকে হঠাৎ করে নিখোঁজ হন জোসনা। বিষয়টি নিয়ে গত ৫ ডিসেম্বর বুধবার দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচার পত্রিকায় একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়।





প্রথম পাতা