২ বছর ৮ মাস পর কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন
তারিখ: ৮-সেপ্টেম্বর-২০২৬
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥

 নবীগঞ্জে মো. আব্দুল কালাম (৪৪) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর প্রায় ২ বছর ৮ মাস পর কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তোলনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করে ঘটনাটি স্ট্রোকজনিত মৃত্যু হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল। গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কাকুড়া গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে আব্দুল কালামের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হবিগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আব্দুল কালাম ওই গ্রামের গেদা মিয়ার ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কাকুড়া গ্রামের ফজলু মিয়ার বাড়িতে নমিন শাহের মাজারের বার্ষিক ওরশ চলছিল। মাজারে দান করা অর্থ নিয়ে আব্দুল কালামের সঙ্গে ফজলু মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওরস চলাকালে আব্দুল কালাম মাজারের দানবাক্সের কাছে বসেছিলেন। এ সময় জুয়েল মিয়া তাকে একটি মিষ্টি পান দেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পান খাওয়ার পর ফজলু মিয়া তাকে একটি পানির বোতল থেকে পানি পান করান। এর কিছুক্ষণ পরই আব্দুল কালাম অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন বলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে প্রচার করা হয়। পরে স্বজনরা তাকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত আব্দুল কালামের দাফন সম্পন্ন করা হয়। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পর বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। বাদীপক্ষের দাবি, চলতি বছরের ২২ মার্চ একটি ঝগড়ার সময় রাশেদ মিয়া উপস্থিত লোকজনের সামনে দাবি করেন, জুয়েল ও ফজলু মিয়া পান ও পানির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে আব্দুল কালামকে খাইয়ে হত্যা করেছেন। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর
স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সালিশে অভিযুক্তরা উপস্থিত হননি বলে বাদীপক্ষের দাবি। এরপর আব্দুল কালামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় নতুন করে প্রশ্ন দেখা দেয়। বাদীপক্ষের অভিযোগ, পরস্পর যোগসাজশে বিষ প্রয়োগ করে আব্দুল কালামকে হত্যা করা স্ট্রোকজনিত স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে প্রচার করে হয়েছে। পরে ঘটনাটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়। এ ঘটনায় আব্দুল কালামের ভাই সুমন মিয়া হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলা আদালত-৫-এ করেন। মামলায় ফজলু মিয়া, জুয়েল মিয়া ও রাশেদ মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং রহস্য উদঘাটনের দাবি জানানো হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর প্রায় ২ বছর ৮ মাস পর কবর থেকে আব্দুল কালামের মরদেহ উত্তোলন করা হলো। এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। অভিযোগের সত্যতা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।