হবিগঞ্জ সদর উপজেলা রিচি ইউনিয়নের সচিব বেলায়েত হোসেন সেলিম ও প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গত ৬ আগস্ট এ অভিযোগ দেন রিচি ইউনিয়নের বাসিন্দা হৃদয় মিয়া, সাগর মিয়া, সুমন মিয়া, সুমন দাস, মুনিম মিয়া, কালাম মিয়া, ও ইস্তিয়াক আহমেদ। অভিযোগের অনুলিপি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ্য করেন রিচি ইউনিয়নের সচিব বেলায়েত হোসেন সেলিম ও প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দাল উদ্দিন অবৈধ ভাবে ট্যাক্স আদায়ের নামে ইউনিয়নের জনগণের মনগড়া ট্যাক্স নির্ধারণ করছেন এবং ট্যাক্স আদায় করছেন। তারা ট্যাক্স আদায়ের ডিজিটাল নাম্বার প্লেট দেওয়ার নাম করে অতিরিক্ত টাকাও জনগণের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন। যার কোন প্রমাণপত্র নেই। তাদের কাছে গিয়ে কেউ নাম্বার প্লেট চাইলেই আগে টাকা চান। যারা টাকা দেন তাদেরকে নাম্বার প্লেট দেন। অন্যথায় কাউকে নাম্বার প্লেট দেননি।
অভিযোগ রয়েছে, দরিদ্রদের ভিজিডি চাল নেওয়া সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ৪/৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। যারা ওই পরিমান টাকা দেন তাদেরকে ভিজিডির কার্ড দেওয়া হয়। জাতীয়তা সনদ, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্র, নাম সংশোধন, কিংবা ফ্যামিলি সার্টিফিকেট সনদ করতে গিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানে স্বাক্ষর আনতে গেলে তাকে টাকা দিতে হয়। তারা ইউনিয়নের প্রতিটি খাত থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে আসছেন। যার কোন সঠিক হিসেবে নেই। প্যানেল চেয়ারম্যান জামাত-বিএনপি’র দলীয় নেতাদের নামে বন্টনের নাম করে সকল বরাদ্দ সরকারি ভিন্ন ভিন্ন সহায়তার নাম নিজেই উপভোগ করে আসছেন। ইউপি সচিবের কাছে জন্ম-মৃত্যু সনদ আনতে গেলে কৌশলে সেগুলো থেকে টাকা আদায় করছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বয়স কম-বেশি করে এমনকি বাল্য বিবাহ দিতেও সহযোগিতা করে জন্ম সনদ দিয়ে আসছেন তিনি। সচিবকে বেশি টাকা দিলে নাম পাল্টিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরী করে দেন। সে ক্ষেত্রে তিনি প্রতিটি সনদ থেকে ৫/১০ হাজার ও ১৫ হাজার টাকা আদায় করছেন। বাংলা থেকে ইংরেজি নামে বানান সংশোধন ক্ষেত্রে ৩/৫শ ও ১ হাজার টাকা নিচ্ছেন সচিব। ওই টাকা নিয়ে তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের টেকনেশিয়ান শাহীনের মাধ্যমে সংশোধনের কাজ করে আসছেন। ইউপি সচিব প্যানেল চেয়ারম্যান ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে ২০১৪ সালের নিয়োগকৃত পুরাতন উদ্যোক্তাকে বাদ দিয়ে অন্য উপজেলার এক মেয়ে কে উদ্যোক্ত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই মেয়ে ইউপি সচিবের গনিষ্ট আত্মীয়। ওই মেয়েকে নিয়োগ দিতে গিয়ে তাকে রিচি ইউনিয়নের স্থায়ী হিসেবে জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয়তা সনদ দেওয়া হয়।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে রিচি ইউনিয়নসহ ৮টি ইউনিয়নের জন্য গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। উক্ত গ্রাম পুলিশের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও রিচি ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশ বোর্ডে না লাগিয়ে ২/৩ ওয়ার্ডে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের গ্রাম পুলিশের চাকুরী পেয়ে দেওয়ার গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। আওয়ামীলীগ নেতা আব্দাল উদ্দিন অবৈধ ভাবে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বৈষম্য বিরোধী সকল আন্দোলনে প্রকাশ্যে অংশ গ্রহন করলেও এখনো রয়েছেন অধরা তিনি। জামাত-বিএনপির কিছু নেতাদের সহযোগিতা নিয়ে তিনি এখনো তার কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বীরদর্পে। বেলায়েত হোসেন সেলিম ইউপি সচিবের চাকুরীর পাশাপাশি তিনি একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থায় চাকুরী করছেন। অথচ যারা সরকারি চাকুরী করেন তারা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতে পারবেন না বলে বিধান রয়েছে। প্যানেল চেয়রম্যান স্বজনপ্রীতি করে নিজ ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বারকে প্রকল্পের নাম দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। প্যানেল ও সচিব তাদের নিজের মত করে রিচি ইউনিয়নের কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।