সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বজনপ্রীতি ও পারিবারিক কমিটি গঠন
তারিখ: ১৯-মে-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী কালীবাড়ি পরিচালনা কমিটি নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্ভীদের চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন ঐহিত্যবাহী কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী কালীবাড়ি পরিচালনা কমিটি এবার স্বজনপ্রীতি আর অনিয়মের মাধ্যমে গঠন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট মনমোহন দেবনাথ বর্তমান কমিটির সভাপতি বীরেন্দ্র লাল রায় ও সাধারণ সম্পাদক অলক দত্ত বাবুকে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছেন। লিগ্যাল নোটিশে তিনি উল্লেখ্য করেন আমার মোয়াক্কেল অনাথবন্ধু তরপদার একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি। তিনি শ্রী শ্রী কালী মায়ের একজন পরম ভক্ত। তিনি দীর্ঘদিন ৩৮ বছর যাবৎ কালীবাড়ী কার্যকরি কমিটির বিভিন্ন পতে থেকে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি বিগত এক যুগ ধরে কালী বাড়ীর শারদীয় দুর্গোৎসব পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সাথে পালন করে আসছেন। এছাড়া শ্রী শ্রী কালীবাড়ী সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নে অনাথবন্ধু তরপদার ভূমিকা অত্যান্ত প্রশংসনীয়। ২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ও মধ্যস্থতার কালীবাড়ি কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটিতে অ্যাডভোকেট পূর্ণব্রত চৌধুরী বিভুকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজনকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। সেই সময় হতে একাধারে ১১ বছর কমিটি পরিচালনা করেন তারা। তাদের দায়িত্বকালে প্রতি বছর সাধারণ সভা ডেকে সনাতন ধর্মাবলম্ভীদের উপস্থিতিতে কালীবাড়ির বৎসরিক আয় ব্যয়ের হিসেব দেওয়ার কথা থাকলেও তারা তা দেননি। হবিগঞ্জের সনাতনীদের চাপের মুখে পড়ে ১১ বছর পরে ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ সভার  আয়োজন করেন তারা। উক্ত সাধারণ সভায় তাদের ১১ বছরের হিসাব প্রদান করলে তার গড় মিলের বিষয় ফুটে উঠে। তারা তাদের নিজের বিশ^স্থ লোক এবং কার্যকরি পরিষদের সদস্যসহ আরো ২জনকে অডিটের দায়িত্ব দেন। যা সনাতন ধর্মাবলম্ভীদের কাছে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। সাধারণ সভায় কালীবাড়ির কার্যকরি কমিটি গঠন করার লক্ষে ৯ সদস্য বিশিষ্ট বিষয় নির্ধারণ কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে অনেকেরই কালীবাড়ির গঠনতন্ত্র সম্পর্কে ধারণ নেই। সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বিষয় নির্ধারণ কমিটি কোন সদস্য পরবর্তী কার্যকরি কমিটিতে থাকতে পারবেন না এবং সাধারণ সভায় যারা অনুপস্থিত ছিলেন তাদেরকে কমিটিতে অন্তভুক্ত করা যাবে না। কিন্তু সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে পারিবারিক কমিটি গঠন করেছেন। এ কমিটিতে বিষয় নির্ধারণীয় কমিটির সদস্যদের সদস্য পদসহ বিভিন্ন পদে অনুভুক্ত করেছেন। সভায় অনুপস্থিত লোকজনদের বিভিন্ন পদে মনোনীত করা হয়। গত ৩০ মার্চ অনাথবন্ধু তরপদার কালীবাড়ির দেওয়ালে পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের একটি বিজ্ঞপ্তি দেখতে পান। এতে তিনি স্তম্ভিত হন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শ্রী শ্রী কালীবাড়ির উপদেষ্ঠা মন্ডলীর কোন অস্থিত্ব নেই। কিন্তু তারা গঠনতন্ত্রের বাহিরে গিয়ে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্ঠা কমিটি গঠন করেছেন। অনেক উপদেষ্ঠারাও জানেন না তাদেরকে যে কমিটিতে রাখা হয়েছে। যা গঠনতন্ত্র পরিপন্থি। কালীবাড়ির সাবেক কমিটি কর্তৃক ভোগ ঘর নির্মাণের জন্য একটি নির্মাণ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। উক্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন শঙ্খ শুভ্র রায়, নব কুমার চক্রবর্তী, অনাথবন্ধু তরপদার ও অলক দত্ত বাবু। শঙ্খ শুভ্র রায় জেলে থাকা অবস্থায় তাকে না জানিয়ে ও কালীবাড়ির সকল কার্যক্রমে অংশ গ্রহনকারী অনাথবন্ধু তরপদারকে ফাঁস কাটিয়ে ভোগ ঘর নির্মাণ করেন নব কুমার চক্রবর্তী ও অলক দত্ত বাবু। ঘর নির্মাণে তারা ১৮ লাখ টাকার উপরে খরচ দেখালেও বিগত অডিট রিপোটে ১৮ লাখ টাকার তথ্য আসেনি। সাধারণ সভায় অনাথবন্ধু তরপদার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ঐ ঘরের অডিট করার জন্য দাবি জানান। উল্লেখ্য বিগত ২১/০২/২০২৬ ইং তারিখে সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও মাইকিং করে কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী কালীবাড়ির কার্যকরি কমিটির সাধারণ সভায় সনাতন ধর্মাবলম্ভীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়। পরবর্তীতে কে বা কেন্দ্রীয় নাম বাদ দিয়ে শ্রী শ্রী কালীবাড়ী লেখা হয়। যা দেখে সনাতন ধর্মাবলম্ভীরা বিভ্রান্তীতে পড়েন। সাবেক কমিটির আয় ব্যয়ের হিসাব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পূর্ণরায় অডিট করার দাবি জানান অনাথবন্ধু তরপদার।