প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আজ মানববন্ধন ॥ শহরের জেকে স্কুলের সামনে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ ॥ সড়ক অবরোধ
তারিখ: ১৩-মার্চ-২০১৮
আখলাছ আহমেদ প্রিয় ॥

হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ এসএসসি পরীক্ষার্থীর উপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা শহরের টাউন হলে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় যায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের জে কে এন্ড এইচকে হাই স্কুল এন্ড কলেজে  বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সকাল ১১ টায় হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান হাসান (১৬) ও সৈয়দ মাহদী হোসাইন (১৬)সহ কয়েকজন শিক্ষার্থী মেলা পরিদর্শন করতে যায়। এ সময় সদর থানার এসআই আব্দুল মুকিত তাদেরকে গেইটে ভিতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। এ নিয়ে তর্কবির্তকের এক পর্যায়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ করে। এতে শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান হাসান ও সৈয়দ মাহদী হোসাইন আহত হয়। এ সময় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে দুপুরে স্কুলের সামনে টাউন হল এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহি সেখানে উপস্থিত হন এবং পুলিশের সাথে আলোচনা করে রাত ৮টায় বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। আহত মাহবুবুর রহমান হাসান শহরের রাজনগর এলাকার হাবিবুর রহমানের পুত্র ও সৈয়দ মাহদী হোসাইন শ্যামলী এলাকার সৈয়দ মহিবুল হোসাইনের পুত্র।
এদিকে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় স্কুলের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে শিক্ষার্থীরা।  
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর থানার এস আই মুকিত জানান, হাত ভাঙ্গার বিষয়টি সঠিক নয়। পুলিশ কোন ছাত্রকে মারধোর করেনি। মূলত জেকে এন্ড এইচ কে হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইভটিজারদের উৎপাতের খবর দিলে তারা সেখানে যায় এবং তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে।  
জেকে এন্ড এইচ কে হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর চৌধুরী জানান, ইভটিজিংএর জন্য তারা পুলিশকে খবর দেননি। তবে উপজেলা প্রশাসন থেকে মেলায় পুলিশ মোতায়েনের আদেশ থাকায় তারা পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহি জানান, আহত স্কুল ছাত্র তার আত্মীয়। বিষয়টি জানার সাথে সাথে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ বলে তাদের তাড়া খেয়ে সে সিএনজির সাথে ধাক্কা খেয়ে আহত হয়েছে। কিন্তু ছাত্ররা বিষয়টি মানতে নারাজ। পরে বিষয়টি আলোচনায় বসে নিস্পত্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রথম পাতা