বাহুবলে অনাহারী বিধবা অন্তঃসত্ত্বার পাশে দাঁড়াল প্রবাসী বাহুবল ঐক্য সংস্থা
তারিখ: ১৪-জুন-২০১৮
বাহুবল প্রতিনিধি ॥

বাহুবলে দুই সন্তানের জননী অনাহারী এক বিধবা অন্তঃসত্ত্বার পাশে দাঁড়াল সংযুক্ত আরব আমিরাতস্থ “প্রবাসী বাহুবল ঐক্য সংস্থা”। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের স্ট্যাটাসের সূত্রে ওই বিধবার সন্ধান পেয়ে বাড়িতে হাজির হন সংস্থার প্রচার সম্পাদক সাহাবউদ্দিন শিহাব। গতকাল বুধবার দুপুরে বিধবার জয়তুন নেছার কসবাকরিমপুরস্থ গ্রামের বাড়িতে হাজির হয়ে নগদ ৫ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়। এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বাহুবল সদরের সাবেক মেম্বার সিরাজ উদ্দিন (সওদাগর), থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বাহুবল উপজেলার সদর ইউনিয়নের অন্তর্গত কসবা করিমপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের পুত্র মনিরুল ইসলাম (রুমেদ) একজন ইটভাটা শ্রমিক। গত বছর তার কিডনীতে পাথর ধরা পড়লে হবিগঞ্জ শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশন সম্পন্ন হয়। এর পর থেকে তিনি শারীরিক দুর্বলতাসহ প্রচন্ড মাথা ব্যথায় ভোগতে থাকে। এক পর্যায়ে রুমেদ প্রায় শয্যাশায়ী হয়ে যান। বন্ধ হয়ে যায় পারিবারিক আয়। দুই সন্তানসহ স্বামী-স্ত্রীর অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটতে থাকে। শরীরে অসুখের যন্ত্রণার চেয়ে অনাহারী স্ত্রী-সন্তানের মুখের দিকে তাকানো ছিল রুমেদের জন্য অধিকতর যন্ত্রণার। এ যন্ত্রণা নিবারণের কোন ঔষধের সন্ধান না পেয়ে হতাশ যুবক রুমেদ গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর গলায় ফাঁস দিয়ে জীবন সংগ্রামের ইতি টানে। সন্তানদের দায় বর্তায় অল্পবয়সী বিধবা জয়তুন নেছা (২৮) ঘাড়ে। রক্ষণশীল এ বিধবার হাতে আয়ের কোন উৎস না থাকায় আশপাশের মানুষের সহায়তায় এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে থাকেন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া তরুন শুভ্র দেব অভি-কে নাড়া দেয়। সে একদিন ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে শিশুদের সাথে কথা বলে এবং এ ব্যাপারে সে তার নিজের এবং তার পরিচালিত ‘পার্লামেন্ট অব বাহুবল’ নামক ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করে। বিষয়টি বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জসীম উদ্দিন-এর নজরে আসলে তিনি বিধবা জয়তুন নেছার বাড়িতে পৌছে নগদ অর্থ, ১ বস্তা চাল ও এক বেলার খাবার তুলে দেন। এছাড়াও তিনি সমাজের বৃত্তবানদেরকে অসহায় জয়তুন নেছার পাশে দাড়ানোর আহ্বান জানান। এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে অন্তঃসত্ত্বা বিধবা জয়তুন নেছার পাশে দাড়ায় প্রবাসী বাহুবল ঐক্য সংস্থা।