তারেকের যাবজ্জীবন বাবরের ফাঁসি একদিকে আনন্দ অন্যদিকে বিক্ষোভ ॥ ১৯ জনের ফাঁসি ॥ ১৯ জনের যাবজ্জীবন ॥ জামায়াত নেতা মুজাহিদসহ অন্য মামলায় ৩ জনের ফাঁসি পূর্বেই কার্যকর
তারিখ: ১১-অক্টোবর-২০১৮
দিদার এলাহী সাজু ॥

অবশেষে বহু প্রতিক্ষিত ভয়াল ২১ আগস্ট ট্রাজেডি মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১২ টায় পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন এ রায় ঘোষনা করেন। মামলার অন্য আসামীদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজাসহ পলাতক আসমীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রায় ঘোষনার সময় আদালতে ৩১ আসামী উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, রায় ঘোষণার পর সারা দেশের ন্যায় হবিগঞ্জ শহরেও আনন্দ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন। অপরদিকে, রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন (পলাতক), সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফজ্জমান বাবর, এন.এস.আই’র সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, শেখ আবদুস সালাম, বিএনপি নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল সালাম পিন্টু, আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউছুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা ওরফে জিএম, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিব উল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সায়ীদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামীম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামীম ওরফে রাশেদ, মো. উজ্জল ওরফে রতন এবং হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ (পলাতক)। বাকি ১৭ আসামি কারাগারে আছেন। রায়ে এদের প্রত্যককেই এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান (পলাতক), বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর ওরফে আবু হুমাইয়া ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, আবিদ হাসান সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, ঢাকা মহানগরীর ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ, মাওলানা মহিবুল মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরসালিন ওরফে মুরসালিন (পলাতক), মোহাম্মদ খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর (পলাতক), সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক) এবং রাতুল আহমেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)। যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মামলার রায়ে ১৯ জনকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তারা হলেন, শাহাদাত উল¬াহ জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর ওরফে আবু হুমাইয়া ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, আবিদ হাসান সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আরিফুল ইসলাম আরিফ, মাওলানা মহিবুল মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরসালিন ওরফে মুরসালিন (পলাতক), মোহাম্মদ খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গির আলম বদর (পলাতক), মো. ইকবাল (পলাতক), মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের (পলাতক), তারেক রহমান (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক) এবং রাতুল আহমেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)।

উল্লেখ্য, মামলার আসামির মধ্যে তিনজনের অন্য মামলায় ফাঁসি হয়েছে। তারা হলেন, মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোটের মন্ত্রী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান এবং শরীফ শাহেদুল আলম। বাকি আসামিদের মধ্যে ৩১ জন কারাবন্দি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীসহ পলাতক আসামীরা যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। 

কারাবন্দি থাকা আসামিরা হলো, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, সামরিক গোয়েন্দা অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রহিম, পুলিশের সাবেক আইজি শহুদুল হক, খোদা বক্স ও আশরাফুল হুদা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক, ঢাকা সিটি করপোরেশেনের সাবেক কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম আরিফ, সিআইডির সাবেক তিন কর্মকর্তা মুন্সী আতিকুর রহমান, আব্দুর রশীদ ও রুহুল আমিন, পাকিস্তানি নাগরিক আব্দুল মজিদ ওরফে ইউসুফ ভাট ওরফে আব্দুল মাজেদ ভাট, হরকাতুল জিহাদ ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের নেতা মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম, মাওলানা শেখ ফরিদ, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা ওরফে জিএম, মাওলানা আব্দুল হান্নান ওরফে সাব্বির, মাওলানা আব্দুর রউফ, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার আবু জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আব্দুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ, উজ্জ্বল ওরফে রতন ও আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার। তারা বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছে।





প্রথম পাতা