সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ॥ বাহুবলে জ্যোস্না ও তার পরিবারের প্রতারণায় ব্যবসায়ি সর্বস্বান্ত
তারিখ: ৫-মে-২০১৯
স্টাফ রিপোর্টার ॥

বাহুবলে জ্যোস্না ঈষিকা হান্নান জ্যোস্না ও তার পরিবারের প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন মোঃ ফারুক মিয়া নামে এক ব্যবসায়ি। তিনি গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। ফারুক মিয়া বাহুবল উপজেলার পূর্ব জয়পুর গ্রামের মাসুদ মিয়ার ছেলে। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, একই উপজেলার বিহারীপুর গ্রামের কৃষি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানের কন্যা ঈষিকা হান্নান জ্যোস্নার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক থাকলেও গত ২০/০৮/২০১১খ্রিঃ তারিখে বাহুবল উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আশ্রাফ আলীর ছেলে মহিউদ্দিনের সাথে ঈষিকার বিয়ে হয়ে যায়। এরপর তাদের দু’টি সন্তান জন্ম হয়। কিন্তু গত বছরের মে মাসে জ্যোস্না তার স্বামী মহিউদ্দিনকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তালাক দেয়। এরপর জ্যোস্না আবার আমার সাথে যোগাযোগ করে। এর ভিত্তিতে তার পরিবারের উপস্থিতিতে গত বছরের আগস্ট মাসের ৮ তারিখে ১০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে ঢাকার কোতয়ালি থানার ১৪নং হাউজ স্ট্রিট কাজী অফিসে বিয়ে হয়। এরপর থেকে আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় সংসার শুরু করি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, আমাদের সংসার চলাকালীন অবস্থাতেই ঈষিকার বাবা আব্দুল হান্নান আমার বিরুদ্ধে গত ০৭/০৮/২০১৮খ্রিঃ বাহুবল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। ডায়েরিতে বলা হয়, ০৬/০৮/২০১৮খ্রিঃ তারিখে বেলা ২টার সময় তার কন্যা ঈষিকা আব্দুল্লাহপুর গ্রামে তার সাবেক স্বামী মহিউদ্দিনের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে আসার পথে আমি ও আমার লোকজন তাকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে করে উঠিয়ে নেই। শুধু তাই নয়, ঈষিকার পিতার মত তার প্রাক্তন স্বামী মহিউদ্দিনও একই ঘটনা তুলে ধরে আমার বিরুদ্ধে গত ১৯/০৮/২০১৮খ্রিঃ তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। যা আমার জানা ছিলনা। অথচ গত বছরের ৬ মে তারিখে মহিউদ্দিনের সাথে জ্যোস্নার তালাক হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে গোপন সম্পর্ক থাকে। যা আমি বুঝতে পারিনি। তালাক প্রদানের পরও প্রাক্তন স্বামীর বাড়িতে জ্যোস্না কেন যাবে? পরে বুঝতে পারলাম জ্যোস্না, তার পিতা আব্দুল হান্নান ও মহিউদ্দিনের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অপহরণের নাটক সাজিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।

আমার ঢাকার বাসায় ঈষিকাকে নিয়ে সংসার চলা অবস্থায় গতবছরের অক্টোবর মাসে ২৬ তারিখে ব্যবসার কাজে আমি বাসা থেকে বের হই। ওইদিনই আমার অনুপস্থিতিতে ঈষিকার বাবা আব্দুল হান্নান  ও মা ফরিদা বেগম আমার বাসায় যান। এরপর তারা ঈষিকাকে নিয়ে গ্রামের চলে যান। যাবার সময় তারা ১১ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪ লক্ষ টাকাসহ আমার বাসায় থাকা বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র সঙ্গে করে নিয়ে যান। আমি বাসায় এসে ঈষিকাকে ফোন দিলে সে জানায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেছে। পরে আরো কয়েকবার ফোন করলে ঈষিকার পিতা আব্দুল হান্নান জানান, তার মেয়ে আর আমার ঘর করবে না। পরে আমি ঢাকার আদালতে মামলা করি। একইসাথে তাদের দায়েরকৃত মিথ্যা অপহরণ মামলা থেকে হাইকোর্ট আমাকে জামিন দেন। এদিকে, জামিন পাবার পর আমার বিয়ের কাবিন ও মহিউদ্দিনের সাথে ঈষিকার তালাকের কাগজপত্রসহ যাবতীয় প্রমাণাদি নিয়ে আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাহুবল মডেল থানার এসআই মহরম আলীর কাছে যাই। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি নন। মামলা দায়েরের প্রায় ৯ মাস অতিবাহিত হতে চলেছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পুলিশ এখনো এই মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করছেন না।

প্রথম পাতা