শহরে ৩৫ লাখ টাকার লেনদেনের দাবিতে তাওহীদের মামলা
তারিখ: ১-নভেম্বর-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

 হবিগঞ্জে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা প্রতারণার মামলাকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মী চৌধুরী তাওহীদ বিন আজাদ। তাঁর দাবি, ব্যবসায়িক লেনদেনের বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁকে সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে এ মামলা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। এদিকে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা থেকে তিনি গত ২৯ অক্টোবর জামিন লাভ করেছেন।
তাওহীদ জানান, তিনি হবিগঞ্জের জলসূখা জমিদার বাড়ির বংশধর। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জমিদার রমজান আলী চৌধুরী ওরফে বোছা মিয়া ছিলেন তাঁর দাদার পিতা। তাঁর দাদা জলসূখা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাওহীদের ভাষ্য, হবিগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন।
তাওহীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজার এলাকার বাসিন্দা মুফতি আমিনুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। আমিনুল ইসলামের পিতা মৃত আব্দুস শুকুর এবং মাতা সুফিয়া খাতুন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমিনুল ইসলামের ট্রেড লাইসেন্স নম্বর ০০৬৭০ উল্লেখ করে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একটি চুক্তি সম্পাদন করা হয়। ব্যবসার উদ্দেশ্যে চেক ও ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে আমিনুল ইসলামের অ্যাকাউন্টে ৩৫ লাখ টাকা প্রদান করেন বলে দাবি করেন তাওহীদ।
তাঁর অভিযোগ, ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে নেওয়া ওই অর্থ ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার না করে ক্যাসিনো ও জুয়াসহ ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করা হয়েছে। এমনকি ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও একাধিক বিয়ের পেছনেও অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ করেন তিনি। পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তাওহীদ।
তিনি জানান, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চেকসংক্রান্ত আইনি নোটিশ পাঠান। পরে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, একই দিনে মুফতি আমিনুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাল্টা প্রতারণার মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি। পরবর্তী সময়ে আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জামিন লাভ করেন।
জমি ক্রয়সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তাওহীদ জানান, প্রায় চার বছর আগে মুফতি আমিনুল ইসলামের মা সুফিয়া খাতুনের কাছ থেকে শায়েস্তাগঞ্জের লেঞ্জাপাড়া মৌজায় ৭০ শতক জমি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন তিনি। তাঁর দাবি, জমি রেজিস্ট্রির সময় মুফতি আমিনুল ইসলাম নিজেই শনাক্তকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে ওই জমি প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হলেও তাওহীদের দাবি, বৈধ দলিলের মাধ্যমে তিনি জমিটি ক্রয় করেছেন এবং এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে।
চৌধুরী তাওহীদ বিন আজাদ বলেন, “হবিগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ আমাকে চেনেন। আমি একজন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মী। আমার বিরুদ্ধে যে ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে আমি মনে করি। ব্যবসার কথা বলে নোটারি চুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকে ৩৫ লাখ টাকা প্রদান করেছি। সেই অর্থ ফেরত চাইতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরই আমার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয়েছে। চার বছর আগে বৈধভাবে জমি রেজিস্ট্রি করেছি, যেখানে মুফতি আমিনুল ইসলাম নিজেই শনাক্তকারী ছিলেন। আমি চাই, সব নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হোক।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করা হোক। একইভাবে আমার পাওনা টাকা ও জমিসংক্রান্ত বিষয়গুলোরও সুষ্ঠু বিচার চাই। কোনো মিথ্যা অভিযোগের কারণে যেন আমার সামাজিক সম্মান, ব্যবসা ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
এ ঘটনায় ব্যাংক লেনদেনের নথি, নোটারি চুক্তি, ট্রেড লাইসেন্স, জমির রেজিস্ট্রি দলিল ও আদালতের কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন চৌধুরী তাওহীদ বিন আজাদ। এ ছাড়া তিনি এ বিষয়ে আরও আইনের আশ্রয় নিবেন।