হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দরিয়াপুরে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের লোকজনের ফের হামলার ভয়ে গৃহবন্দি ঠিকাদার আক্কাছ মিয়া ও তার পরিববার এখন ভয়-আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। যে কোন সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তার পরিবারের উপর হামলা করতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। এতে করে প্রাণের ভয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে, হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের সতর্কীকরণ নোটিশের তোয়াক্কা না করায় ওই প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর পক্ষে ওই গ্রামের আব্দুল সামাদ মেম্বারের পুত্র মোঃ আব্দাল মিয়া ও মৃত আবুল হোসেনের পুত্র মোঃ নুরুল ইসলামসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক লোকজনের স্বাক্ষরিত এক প্রত্যয়ন পত্রে তারা বলেন, 'গ্রামের মৃত আতর আলীর পুত্র তাজ উদ্দিন ও তার লোকজন ওই গ্রামের ঠিকাদার আক্কাছ মিয়াকে মারপিট করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। উল্লেখিতরা বিভিন্ন সময় তার উপর হামলার উদ্দেশ্যে এলাকার রাস্তা-ঘাটে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বসে থাকে'। 'এর আগে উল্লেখিতরা আক্কাছ মিয়াকে মারপিট করে। বিষয়টি সদর মডেল থানা পুলিশকে অবগত করা হয়। বিষয়টি সমাধানের লক্ষে গত ৩০ জুন হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় আসার জন্য ১৫৪ ধারায় সতর্কীকরণ নোটিশ প্রদান করে'। এতে ঠিকাদার আক্কাছ আলী থানায় হাজির হলেও ২য় পক্ষ বিষয়টির তোয়াক্কা করেনি। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে গ্রামে থমথমে অবস্থা বিবাজ করছে। যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। বিষয়টি লিখিত আকারে শীঘ্রই হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাকে অবগত করবেন বলে জানান তারা।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার আক্কাছ আলী জানান, তিনি বিসমিল্লাহ এন্টার প্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। এ সুবাধে বিভিন্ন কোম্পানীতে ইট, বালু ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ করেন। এতে করে তার ব্যবসায় ভাল উপার্জনে ইর্ষাণীত হয়ে পড়ে একই গ্রামের তাজ উদ্দিন। গত ৩ জুলাই স্থানীয় শরীফাবাদ মাদ্রাসা সংলগ্ন বীজের কাছে তাজ উদ্দিন মিয়ার নেতৃত্বে তার লোকজন আক্কাছ মিয়াকে আটক করে চাদা দাবী করে বলে তিনি জানান। এ সময় তিনি টাকা না দিলে উল্লেখিতরা তাকে মারপিট করে। এতে তিনি আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর জের ধরে গত ৫ জুলাই সানশাইন ব্রিকস লিঃ-এর সামনে ঠিকাদার আক্কাছ মিয়াকে না পেয়ে তার ম্যানেজার কাউছার মিয়ার উপর উল্লেখিতরা হামলা চালায় বলেও জানান তিনি। এক পর্যায়ে কাউছার মিয়া তাদের ভয়ে কোম্পানীর ভিতরে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করে। বিষয়টি আক্কাছ মিয়া সদর থানায় অবগত করলে এসআই পলাশ কাউছার মিয়াকে কোম্পানীর ভিতর থেকে উদ্ধার করে এবং সিসি ক্যামেরা থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে বলে জানান তিনি। এরপর থেকে তিনি ভয়-আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের সু-নজর দাবী করছেন।