নুরপুরে অসহায় একটি পরিবারের ৩শ বছরের মৌরশী সম্পত্তি দখলের চেষ্টা
তারিখ: ৯-জানুয়ারী-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর গ্রামে জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আকতার হোসেন ও তার পরিবারের ওপর একের পর এক হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, নুরপুর গ্রামের মৃত দিদার হোসেনের পুত্র আকতার হোসেন ও তার পরিবার বংশপরম্পরায় প্রায় তিনশ বছর ধরে তাদের মৌরশী সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছিল। তবে ১৯৫৫ সালে ফুরকান উল্লাহ তার চাচাতো ভাই আব্দুল হেকিমের ১৭৫৬ দাগের (বারন্ডী) ২৫ শতক জমি থেকে ১২ শতক এবং ১৮৬১ দাগের (বাড়ি) ৯ শতক জমি থেকে ৪ শতক জমি জাল কাগজ দেখিয়ে নিজের বলে দাবি করেন। এই বিরোধের ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে ফুরকান উল্লাহর নাতি মাহরাজ মিয়া ১৮৬১ দাগের ৫ শতক বাড়ির জায়গা নিজের দাবি করে প্রভাব খাটিয়ে জোরপুর্বক দখল করে নেন। এমনকি আখতার হোসেনের ঘর ভেঙে নিজে ঘর তৈরী করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিষয়টি নিয়ে সোনাবাহিনীর শাহজিবাজার ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেন আখতার হোসেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে স্থানীয় মুরুব্বিয়ানদের নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিরোধপূর্ণ ওই ৫ শতক বাড়ির জমি আকতার হোসেন ও তার পরিবারের বৈধ মালিকানার প্রথমিক প্রমাণ পাওয়ায় সেনাবাহিনী ও স্থানীয় মুরুব্বিয়ানরা জমিটির দখল আকতার হোসেনদের বুঝিয়ে দেন। তবে আদালতের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই পুনরায় ওই জমি দখলের চেষ্টা শুরু করে মাহরাজ মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন। জমি ছাড়তে না চাইলে আকতার হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। সম্প্রতি তাদের উপর হামলার অভিযোগ করেন আখতার হোসেন।
ভুক্তভোগী আখতাম মিয়া বলেন, গত ২৯ ডিসেম্বর পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহরাজ মিয়া, তার ছেলে খোকন মিয়াসহ একদল লোক আকতার হোসেন, তার মা রিজিয়া খাতুন ও ভাই আলী হোসেনের ওপর হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই ঘটনার পর থেকে আকতার হোসেন ও তার পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে নুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বেলাল বলেন, “বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। কাগজপত্র অনুযায়ী জমির বৈধ মালিক দিদার হোসেনের ছেলেরা। কিন্তু প্রতিপক্ষ সালিশ ও আইন মানতে চায় না। তবে মাহরাজ মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া বলেন, প্রভাব বিস্তার করে আখতার হোসেনের পরিবার জায়গাটি দখল করেছে। এমনকি আদালতে মামলা চলমান থাকলেও তারা আদালতের নির্দেশ মানছে না।

প্রথম পাতা