হবিগঞ্জ শহরে দিন দিন বেড়েই চলেছে চুরির ঘটনা। পুলিশের টহল ও স্থানীয় যুবকদের স্বেচ্ছাসেবী পাহারা সত্ত্বেও চোরচক্রের দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না। শহরের বিভিন্ন মহল্লায় প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাসা, দোকান কিংবা স্থাপনায় চুরির ঘটনা ঘটছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চোরচক্রের প্রধান টার্গেট এখন পানির মোটর, টিউবওয়েলের মাথা, বৈদ্যুতিক তার, লোহার গ্রিল, রডসহ বিভিন্ন লোহা জাতীয় সামগ্রী। গভীর রাত কিংবা ভোরের দিকে নির্জন মুহূর্তে এসব চুরি করে দ্রুত সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর, ছাদ কিংবা আঙিনায় থাকা মূল্যবান যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চুরি হওয়া এসব মালামাল শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অবৈধ ভাঙারি দোকানে সহজেই বিক্রি করা যাচ্ছে। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভাঙারি ব্যবসায়ীরা চোরাই পণ্য কিনে নিচ্ছেন, যা চুরির প্রবণতাকে আরও উৎসাহিত করছে। ফলে চোরচক্র দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
শহরের বেশ কিছু এলাকায় স্থানীয় যুবকরা রাত জেগে পাহারা দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। পাহারাদারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চোরেরা কৌশলে কাজ সেরে নিচ্ছে। অনেক সময় চোর ধরতে গেলে সংঘর্ষের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষও এগিয়ে আসতে সাহস পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, “এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের এলাকায় পানির মোটরসহ লোহা জাতীয় জিনিস চুরি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মাদকসেবীরা এসব ঘটনার সাথে জড়িত। তারা চোর দমনে পুলিশের টহল আরও জোরদার করার পাশাপাশি অবৈধ ভাঙারি ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো জরুরি বলে মনে করছেন। একই সঙ্গে চোরাই মাল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে না।