স্টাফ রিপোর্র্টার ॥
হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের পর এলাকায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। উপজেলা রিটার্ণিং কর্মকর্তার কাছে স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ দেয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী জেলাজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। এদিকে, অভিযোগ কারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বলে জানিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মতে, রিটার্ণিং কর্মকর্তার কাছে ড. রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে প্রচারপত্র বিতরণের অভিযোগ দিয়ে তারা নিজেরাই ফেঁসে গেলেন। এর আগে ড. রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মসফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমান ও উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিতু মিয়া সেন্টু ওই কর্মকর্তার কাছে প্রচারপত্র বিতরনের অভিযোগ করেন।
এদিকে, অভিযোগকারীরা দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ¦ জিকে গউছ। তিনি বলেল, দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্র্থীকে সুবিধা দিতে জনসম্মুখে দলকে যারা হেয়-প্রতিপন্ন করেছেন আজ হউক বা কাল হউক দল তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবে। এটা শতভাগ নিশ্চিত বলতে পারেন’।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৭ জানুয়ারী) নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং আজমিরীগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক সায়দুর রহমান রেজা কিবরিয়াকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেন। ওই নোটিশে আগামী ১৪ জানুয়ারির মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ২ জানুয়ারী সন্ধ্যায় রেজা কিবরিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ী বাজারে এবং ৩ জানুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে পাঞ্জারাই বাজারে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে প্রচারপত্র বিতরণ করেন। এতে নবীগঞ্জ পৌর এলাকার ওসমানী রোডের বাসিন্দা জিতু মিয়া সেন্টু ও মধ্য বাজার এলাকার বাসিন্দা মসফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমান ওই প্রচারের দুটি করে ছবিসহ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই শোকজ করা হয়। শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর লঙ্ঘন হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে না, নোটিশের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।