৭১’র পরাজিত শক্তিরা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করছে-তারেক রহমান
তারিখ: ২৩-জানুয়ারী-২০২৬


জাকারিয়া চৌধুরী ॥ একটা রাজনৈতিক দল সবগুলো পোস্টাল ব্যালট দখলের চেষ্টা করছে। তাই এ বিষয়ে সাবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আগে যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে, এখনও একটি বিশেষ দল ভোট দখলের চেষ্টা করছে, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করছে। তারা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছে। যারা ন্যায়ে কথা বলে তারা ভোটের আগেই অন্যায় শুরু করে দিয়েছে। তা হলে তারা দেশের ক্ষমতায় আসলে জনগণকে কি দিবে। তাই এ বিষয়ে শুধু সজাগ না সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 
তিনি বলেন- একটা রাজনৈতিক দলকে আমরা বলতে শুণছি অমুককে দেখেছেন, তমুককে দেখেছেন, এবার আমাদের দেখেন। ৭১’এ লাখো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেদিন ওই রাজনৈতিক দল কাদের পক্ষ নিয়েছিল? যারা এই দেশকে স্বাধীন হতে দিতে চায়নি। এ কারণে এদেশের বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছে, বহু নারী ইজ্জত হারিয়েছেন। নতুন করে তাদের দেখার কিছু নাই। একমাত্র রাস্তা হলো জনগণের শাসন কায়েম করা, যারা এই দেশের মানুষের কাছে জবাব দিতে বাধ্য থাকবে। তিনি বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা দরকার, জনগণের সরকারই কেবল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। অনেকেই বলে, ফজরের নামাজ পড়ে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে হবে। আমি বলব এবার তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে জামায়াতে ফজরের নামাজ পড়ে তারপর সাতটায় গিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, এই দেশের মালিক জনগণ। এই বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ, এই ২০ কোটি মানুষ এ দেশের মালিক। ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করতে হবে। তা না হলে যার যা অধিকার সেটা থেকে বঞ্চিত হবে। বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, এই এলাকায় অনেকগুলো চা বাগান আছে। সেই চা বাগানের নারী-শ্রমিকদের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে যে মা-বোনদের সংসার চালাতে কষ্ট হয়, আপনারা যদি ১২ তারিখে ধানের শীষকে বিজয়ী করেন তাহলে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। যার মাধ্যমে সরকারি সহায়তার মাধ্যমে ভালোভাবে সংসার পরিচালনা করতে পারবেন। বিএনপি নির্বাচিত হলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। 
কৃষকদেরকে কৃষক কার্ড দেয়া হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকার থেকে ব্যবস্থা করা হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার, ওষুধ, বিজ সহজেই পাবেন। কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। ধানের শীষকে জয়যুক্ত করলে এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আপনাদের কাজ হলো ধানের শীষে সিল মারতে হবে।
তারেক রহমান বক্তব্য দেয়ার আগে হবিগঞ্জের চারটি নির্বাচনী আসনের প্রার্থী হবিগঞ্জ-১ আসনের ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনের ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের আলহাজ্ব জি কে গউছ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলকে উপস্থিত সকলের মধ্যে পরিচয় করিয়ে দেন এবং ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান জানান। সভায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম ইসলাম তরফদার তনুর পরিচালনায় ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রাকিব ও জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হেলাল খানসহ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়কবৃন্দ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।