নবীগঞ্জের মানব পাচারকারী সৈয়দ আলী হোসেনের খুঁটির জোর কোথায়?
তারিখ: ৪-জানুয়ারী-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে শেষ সম্বলটুকুও হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। প্রবাসী অধ্যুষিত নবীগঞ্জ উপজেলায় কথিত চিহ্নিত আদম ব্যবসায়ী সৈয়দ আলী হোসেন ও তার চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন বিদেশগামীরা। ‘বিদেশ’ নামক সোনার হরিণ ধরতে গিয়ে অনেকেই হারাচ্ছেন সহায়-সম্বল, নিঃস্ব হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে পড়ছেন চরম অনিশ্চয়তায়। নবীগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া আদম ব্যবসায়ী সৈয়দ আলী হোসেন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলা সদরের হালিতলা গ্রামের সঞ্জব আলীর পুত্র। তার বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের লোকজন ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দাসহ একাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সৌদি আরব পাঠানোর নাম করে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের একজন, নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের স্বস্তিপুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মোঃ শাহিনূর মিয়া এই প্রতিনিধিকে জানান, দূর সম্পর্কের আত্মীয়তার সূত্রে কয়েক বছর আগে তার সঙ্গে সৈয়দ আলী হোসেনের পরিচয় হয়। সেই সুযোগে আলী হোসেন তাকে ৪ লক্ষ টাকার চুক্তিতে সৌদি আরব পাঠান। পরবর্তীতে শাহিনূর মিয়ার মাধ্যমে আরও তিনজনকে সৌদি আরব পাঠানোর চুক্তি করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। টাকা নেওয়ার পর আলী হোসেনের আচরণ বদলে যায় এবং তিনি সম্পূর্ণভাবে টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নবীগঞ্জ থানায় ও বিজ্ঞ আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, জেল থেকে বের হয়ে একাধিকবার টাকা পরিশোধের তারিখ নির্ধারণ করলেও আজ পর্যন্ত তিনি প্রতারিতদের টাকা ফেরত দেননি। উল্টো ভুক্তভোগীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই প্রতারণার শিকারদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মোঃ মোতাহার মিয়া, নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামের জিতু মিয়ার পুত্র মোঃ অনু মিয়া, বাহুবল উপজেলার বানাইত গ্রামের মৃত হেকিম উল্লার পুত্র আব্দাল মিয়াসহ আরও অনেক বিদেশগামী ব্যক্তি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একাধিক মামলা ও গ্রেফতার সত্ত্বেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যা তার পেছনে কোনো প্রভাবশালী ‘খুঁটির জোর’ আছে কিনা—সে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রতারিত পরিবারগুলো দ্রুত তাদের টাকা ফেরত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা, যাতে মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে আর কেউ এমন প্রতারণার শিকার না হন।