স্টাফ রিপোর্টার ॥
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদি হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার একটি বাসা বাসা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে গ্রেফতার দেখানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছাঃ ইয়াসমিন আকতার। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে সেটি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। এদিকে- মাহদিকে গ্রেফতারের খবর নেতাকর্মীসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সদর থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীসহ উৎসুখ জনতা। প্রতিবাদে তারা মাহদির মুক্তি ছেয়ে নানা শ্লোগান দেন। বিক্ষোভ করেন সদর থানার গেইটের সামনে।
এর আগে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে ওসি’র সঙ্গে মাহদি হাসানের ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম’ বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। এই বক্তব্যটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকে এই ঘটনার তদন্ত করে সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন। বিচার দাবী করেছেন এসআই সন্তোষের পরিবারও। অন্যদিকে এ ঘটনায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি শনিবার দলীয় প্যাডে এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সভাপতি রিফাত রশিদ বরাবর উক্ত ঘটনার কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সংগঠনের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। যদিও সন্ধ্যার পর তাকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে মুক্তি না দেয়ায় সারা দেশে আন্দোলনের ডাক দেয় সংগঠনটি।
জানা যায়- শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ এনামুল হাসান নয়ন নামে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও জুলাইযোদ্ধাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে শুক্রবার দুপুরে তাকে থানা থেকে ছাড়াতে যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানসহ নেতাকর্মীরা। এসময় থানার ভেতরে ওসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতন্ডা হয় মাহদি হাসানের। বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে মাহদি হাসান বলেন- ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম’। নয়ন ইতোপুর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও সে জুলাইযোদ্ধা। সে সম্মুখ সাড়িতে লড়াই করেছে। পরবর্তীতে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শহিদুল হক মুন্সীর মধ্যস্থতায় এনামুল হক নয়নকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপর হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের ভেরিফাইড ফেসবুক থেক একটি স্ট্যাটাস দিয়ে জানানো হয়- ‘শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন জনৈক এনামুল হাসান নয়নকে মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষ্যে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে থানায় জিজ্ঞাসাবাদকালে কোনরূপ সম্পৃক্ততা প্রতীয়মান না হওয়ায় তাকে অভিভাবকের নিকট জিম্মায় দেওয়া হয়।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নিহত এসআই সন্তোষ চৌধুরীর পিতা বিষ্ণুপদ চৌধুরী বলেন- আমার ছেলেকে নির্মমভবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এখনও সেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারিনি। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে আমরা তাদের দৃষ্ঠান্তমূলক বিচার চাই। তিনি বলেন- এখন দেশের পরিস্থিতি ভাল না। তাই বিচার নিয়ে শঙ্কায় আছি।
শুক্রবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান বলেন- আমার এক জুলাই আন্দোলনকারি ভাইকে অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করায় থানা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার প্রাক্কালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আমার মুখ ফঁসকে অসাবধানতাবশত স্লিপ অব টার্ন হয়েছে। তাই আমি সকলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।