নবীগঞ্জে ভাড়াটিয়া কর্তৃক নিরীহ পরিবারের জমি দখল ও হামলা
তারিখ: ৮-জানুয়ারী-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

 নবীগঞ্জ উপজেলায় জমি ক্রয় করার পরও প্রভাবশালী ভাড়াটিয়া কর্তৃক ঘর ছাড়তে অস্বীকৃতি এবং জোরপূর্বক দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নিপা বেগম। এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে গুরুতর আহত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার মাহমদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের কন্যা নিপা বেগম গত বছরের ১৩ অক্টোবর ৫১৩১ নং দলিলের মাধ্যমে একটি জমি (মৌজা: লিগাঁও, জে.এল নং: ২০২, নামজারি খতিয়ান নং: ২৫-১৩৪৪, দাগ নং: ৭৭৪ এবং পরিমাণ ০৮ শতক ৫০ অযুতাংশ) আইনানুগভাবে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি জমিটির নামজারি সম্পন্ন করেন এবং পূর্বের মালিক পক্ষ তার কাছে জমির দখল হস্তান্তর করেন।
অভিযোগে বলা হয়, উক্ত জমির ওপর একটি ঘর ছিল, যেখানে একই গ্রামের আনু মিয়ার পুত্র ওয়াহিদ মিয়া পূর্বে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। জমি বিক্রির পর ঘরটি খালি করে দেওয়ার জন্য বলা হলে পূর্বের মালিকের উপস্থিতিতে ওয়াহিদ মিয়া সাত দিনের সময় নেন। তবে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও তিনি ঘরটি খালি না করে জোরপূর্বক দখল করে রাখেন। এ বিষয়ে গ্রামে একাধিকবার বিচার-শালিশ বসানো হলেও বিবাদী ওয়াহিদ মিয়া তাতে সাড়া দেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। উল্টো তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে করে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান নিপা বেগম। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক জোরপূর্বক দখল উচ্ছেদ এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে গত ৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপের বাড়িতে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক শেষে নিপা বেগমের পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির গেইটের সামনে নুর মিয়া, এলাইছ, আহাদ, ওয়াহিদ, তাবির, ইলাইছ মিয়াসহ কয়েকজন মিলে শাহিন মিয়ার স্ত্রী শাহিনা বেগম, মৃত আনিছ উল্লাহর পুত্র সামাল মিয়া, মৃত ছয়াদ উল্লাহর পুত্র কাপ্তান মিয়া এবং সামাল মিয়ার স্ত্রী লাভলী বেগমের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে শাহিনা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর গত ৭ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।