নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১০০ গজের ভিতরে পুলিশের সামনে পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমীন ও জুবেদ আহমেদের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১০০ গজের ভিতরে একটি বাসার সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়- গত ৬ জানুয়ারী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নং ৯৮৭ দায়ের করেন পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের তাজ উদ্দিন তালুকদার। মামলায় উল্লেখ করেন- নবীগঞ্জ উপজেলার হালিতলা মৌজার জেএল নং ৮৭ হালে ৯০, খতিয়ান নং ১৩১৭, আর এস দাগ নং- ৫৪১, মোয়াজী ৫ শতক, বোরো রকম ভূমি বর্তমানে বাড়ি রকম ভূমি তাজ উদ্দিন তালুকদার নিকট হতে ক্রয় করেন বুরুঙ্গা গ্রামের কাতার প্রবাসী এমদাদুর রহমান।
উক্ত জায়গায় মালিক কাতার প্রবাসী এমদাদুর রহমানের নির্মাণাধীন বিল্ডিং রয়েছে। এমদাদুর রহমানের নির্মাণাধীন বিল্ডিং এর কাজের দায়িত্বে রয়েছেন তালতো ভাই তাজ উদ্দিন তালুকদার। অন্যদিকে কাতার প্রবাসী এমদাদুর রহমানের স্ত্রী শাহ সানজানা আক্তার শেফীর সঙ্গে গন্ধা গ্রামের জুবেদ আহমেদের পরকীয়া সর্ম্পক থাকায় আদালতের মাধ্যমে স্ত্রী শাহ সানজানা আক্তার শেফীকে তালাক দেন এমদাদুর রহমান। এ ঘটনার পর সানজানা ও তার ভাই শাহ সোহেল মিয়া বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
কাতার প্রবাসী এমদাদুর রহমান জায়গা ক্রয়ের পর থেকে সানজানার পক্ষ নিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমীন, শাহ সোহেল মিয়া, পরকীয়া প্রেমিক জুবেদ আহমেদ, তার লোকজন উক্ত জায়গা দখল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে পড়ে লাগেন। জোরপূর্বক জায়গা দখল করতে গিয়ে একাধিকবার তাজ উদ্দিন তালুকদারের উপর হামলা করে শাহ সোহেল মিয়া, জুবেদ আহমেদ, বিএনপি নেতা নুরুল আমীন ও তাদের লোকজন। এ ঘটনার পর গত ৬ জানুয়ারী জায়গা ও নির্মাণাধীন বিল্ডিং রক্ষার স্বার্থে আদালতে রিসিভার নিয়োগের আবেদন করেন তাজ উদ্দিন তালুকদার। আদালত আবেদন আমলে নিয়ে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে উক্ত জায়গায় শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা বিদ্যমান থাকায় ভূমিতে রিসিভার নিয়োগ করেন।
গতকাল বুধবার আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে নবীগঞ্জ থানার এসআই মতিউর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই জায়গায় যায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতিতে পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমীন, জুবেদ আহমেদ, শাহ সোহেল মিয়া, মাহবুব আহমেদ, আকবর, নোহাস, আকাশ আহমেদ ও তাদের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওসমানী রোডস্থ মোতালিব ভিলার সামনে থাকা তাজ উদ্দিন তালুকদার ও তার লোকজনের উপর চালায়। হামলায় ৫ জন গুরুতর আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের মধ্যে রক্তাক্ত মঈনউদ্দিন ওরফে আশরাফুল ইসলামকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। অন্যান্য আহতরা হলেন- সইদুর রহমান, তাজ উদ্দিন, সাদিকুর রহমান, কোহিনুর মিয়া।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার এসআই মতিউর রহমান মুঠোফোনে জানান- আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়েছিলাম, পরে ঝামেলা সৃষ্টি হওয়ায় আমরা চলে আসি, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে উর্ধ্বতর্ন কর্মকর্তার নিষেধ আছে জানিয়ে থানার ওসির সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
পরে নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিঞা জানান- একটি জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করতে পুলিশ যায়, পরে দুই পক্ষের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে শুনেছি, তবে বিস্তারিত জানিনা।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, পরে কি হয়েছে আমি জানি না। যিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন তার সঙ্গে কথা বলুন।