স্টাফ রিপোর্টার ॥
দীর্ঘদিন ধরে একটি ভূমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের শৈলজুড়া গ্রামের মৃত ছনু মিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র কবির মিয়া উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত প্রায় ৭৬ শতক জমি এবং মৃত খোদেজা বানুর মালিকানাধীন ৪০ শতক জমি আইনানুগভাবে নামজারি সম্পন্ন এবং জঝ/ঝজ রেকর্ডে সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ততা সত্ত্বেও গত প্রায় ১৮২০ বছর ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী আওয়ামী পরিবারের দ্বারা বেআইনিভাবে জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বৈধ দলিল, খতিয়ান ও সরকারি রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও তারা দীর্ঘ দুই দশক ধরে নিজ পৈতৃক সম্পত্তির ভোগদখল থেকে বঞ্চিত। তাদের মতে, এই দখলদারিত্ব কেবল ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার হরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ভূমি রেকর্ড, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।
ভুক্তভোগী পরিবারের একজন সদস্য বলেন, “আমরা বারবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুরুব্বি ও প্রভাবশালীদের কাছে বিচার চেয়েছি। কিন্তু অভিযুক্ত পরিবারটি রাজনৈতিকভাবে এতটাই শক্তিশালী যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। ন্যায়বিচার যেন এখানে ক্ষমতার কাছে জিম্মি।”
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত পরিবারটি ভুয়া দলিল তৈরি করে এবং ভূমি অফিসে প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের নামে ঝজ (সার্ভে রেকর্ড) তুলেছে, যা তারা সম্পূর্ণ অবৈধ ও জালিয়াতিমূলক বলে দাবি করছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাগজে-কলমে মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের অধিকার মুছে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যেও চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামবাসীর একাংশ নীরব থাকলেও অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হয়রানি ও প্রতিহিংসার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কথা বলা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিসরও ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে বলে মত স্থানীয়দের।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে হাবিবুর রহমান রিংকু প্রশাসনের প্রতি স্পষ্ট দাবি জানিয়ে বলেন, “আমরা ভিক্ষা চাই না, আমরা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত চাই। অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না।”
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর একাংশ জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ভূমি অফিসের তাৎক্ষণিক, নিরপেক্ষ ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তাদের মতে, দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এটি ভবিষ্যতে ভূমি দখলকারীদের জন্য একটি ভয়ংকর নজির হয়ে থাকবে যেখানে বৈধ কাগজপত্র নয়, প্রভাবই শেষ কথা হয়ে দাঁড়াবে।