নবীগঞ্জে কাজের মেয়েকে ধর্ষণ, সন্তান জন্মের পর মামলা করায় বিপাকে মা
তারিখ: ১৬-জানুয়ারী-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

 নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্বপ্না বেগম (৩৩) নামে এক গৃহ পরিচারিকাকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সন্তান জন্মের পিতৃ পরিচয় পেতে গিয়ে সমাজ পতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তিনি কোন সমাধান পাননি। বর্তমানে অসহায়ত্ব বোধ করছেন ওই নারী। এ  বিষয়ে মামলা হয়েছে। মামলায় বিয়ের প্রলোভন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ওই নারীকে যৌন নিপীড়নের মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগি স্বপ্না বেগম গত ১৬ নভেম্বর  হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৫৯/২০২৫)। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হবিগঞ্জকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামালা সূত্র জানায়, স্বপ্না বেগম নবীগঞ্জ উপজেলার কামারগাঁও (আশার বন) গ্রামের সামছুদ্দিন মিয়ার কন্যা।  তিনি পরিবারে অভাব অনটনের জন্য  দীর্ঘ দিন ধরে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কাজের সুবাদে তিনি একই গ্রামের প্রভাবশালী মুর্শেদ আহমেদ চৌধুরী মুর্শিদের বাড়িতে গৃহ-পরিচারিকার কাজে নিয়োজিত  ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন সময় স্বপ্না বেগমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন মুর্শেদ আহমেদ চৌধুরী মুর্শিদ। ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে এসব নির্যাতনের ফলে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। গত ১৬ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে দীঘলবাক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যারা মেডিকেল অফিসার রুমা বেগমের তত্ত্বাবধানে স্বপ্না বেগম একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে নব জাতকের পিতা হিসেবে অভিযুক্ত মুর্শেদ আহমেদ চৌধুরী মুর্শিদের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সন্তান জন্মের পর স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি দাবিতে স্বপ্না বেগম সমাজপতিদের দারস্থ  হয়ে কোন সমধান না পেয়ে কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের খবর পেয়ে  মুর্শেদ  আহমদ চৌধুরী  প্ত্রু উপজেলা  স্কুলের শিক্ষক  জামিল আহমেদ  চৌধুরী  খোকন গংদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বপ্না বেগম। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। স্বপ্না বেগম আরো জানান তিনি প্রাণের ভয়ে মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেন স্বপ্না বেগম। তিনি নিজের ও কন্যা সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে ও তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রথম পাতা