স্টাফ রিপোর্টার ॥
হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও টানা ৩ বারের নির্বাচিত হবিগঞ্জ পৌরসভার পদত্যাগকারী মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন- বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনার বিকল্প নেই। বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল। বিএনপি ৩ বার জনগণের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৩ বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। খালেদা জিয়া কৃষি ঋণ মওকূফ করেছিলেন, মায়েদের জন্য বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা, মাতৃত্বকালিন ভাতা চালু করেছিলেন। মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে লেখাপড়ার ব্যবস্থা ও বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন। তাই খালেদা জিয়ার জানাজায় যে মানুষ হয়েছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কারো জানাজায় হওয়ার নজীর নেই। শুধু পুরুষ নয়, নারীরাও জানাজায় উপস্থিত হয়েছিলেন। এটা ছিল খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের ভালবাসা।
তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় এই শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মাহফিলে জি কে গউছ আরও বলেন- আওয়ামীলীগ যে অপকর্ম করে গেছে আমরা ভুলেও যেন কেউ সেই পথে হাটার চেষ্টা না করি। নতুবা আওয়ামীলীগের যে পরিণতি হয়েছে আমাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। আওয়ামীলীগ মানুষকে সম্মান করতে জানতো না, মানুষকে ভালবাসতে জানতো না। কারণ আওয়ামীলীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ছিল না। জনগণের ভোটের প্রয়োজন আওয়ামীলীগের হয় নাই। আওয়ামীলীগের নেতারা এলাকায় আসার আগেই পুলিশ চলে আসতো, ডানে বামে পুলিশ থাকতো, বক্তব্যে যা মন চায় তাই কইতো। আমরা এর ব্যতিক্রম। আমরা মানুষের খেদমত করার সুযোগ পাইলে ডানে বামে পুলিশ থাকবে না, ইনশাআল্লাহ। মানুষকে ভালবাসলে পুলিশের প্রয়োজন হয় না। জনগণের অর্থ চুরি করে বাড়ি বানানো যায়, আবার জনরোষে সেই বাড়ি থেকে পালিয়েও যেতে হয়। এটা আওয়ামীলীগ নেতারা ভুলে গিয়েছিল।
তিনি বলেন- আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসেই বলেছিল ২০২১ সাল পর্যন্ত থাকবে, জোর করে চুরি করে কৌশল করে ২১ সাল পাড় করেছে। পরে লোভ আরও বেড়ে গিয়েছিল, বলেছে ৪১ সাল। কিন্তু মহান আল্লাহ ২০২৫ সালের ৫ আগষ্ট তাদের সেই স্বপ্ন সমাপ্ত করে দিলেন।
৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খাদেম সামাদ উল্লা বাচ্চু’র সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক আলী আহমেদ রুবেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান কাজল, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী ফরিদ, জেলা যুবদলের আহবায়ক জালাল আহমেদ, সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু, যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান সুমন, এডভোকেট মতিউর রহমান সানু, রাজিউড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাফেজ শেখ উসমান গনি, সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল মিয়া, সাহাব উদ্দিন, আলাউদ্দিন, কালা মিয়া সরদার, নুর ইসলাম, নবী ইসলাম, লাল মিয়া, শাহজাহান মিয়া, জিলু মিয়া, লুৎফুর মিয়া, আব্দুল হাসিম, আব্দুল হাই, কাউছার মিয়া, আছকির মিয়া, আজদু মিয়া, ফারুক মিয়া, সেবুল মিয়া প্রমুখ।