শহরে প্রশাসনের নাকের ডগায় মাদক ব্যবসায়ীদের রমরমা ব্যবসা
তারিখ: ১৪-অক্টোবর-২০২৬
স্টাফ রিপোর্র্টার ॥

শারদীয় দূর্গাপূজাকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। জেলার বিভিন্ন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যেই করছেন রমরমা ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে রবিদাস পাড়া ও ২নং  পুল এলাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক মামলার আসামী সৈয়দ আলীসহ প্রায় ডজন খানেক ব্যবসায়ী বসবাস করছেন এবং প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলাজুড়ে তারা মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এতে মাদক বিক্রি করে সহজেই তারা বনে গেছেন আঙুল ফুলে কলাগাছ। 
এদিকে, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গোপায়া ইউনিয়নের ২নং পুল বহুলা এলাকায় তালিকাভুক্ত একাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথিতে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এরপরও তাদের প্রকাশ্য চলাফেরা ও মাদক সংক্রান্ত তৎপরতা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 
সূত্র জানায়, শারদীয় দূর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা। 
প্রশাসনের তালিকায় থাকা কয়েকজন ব্যবসায়ী এলাকায় সরব রয়েছেন। কেউ কেউ আগে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে ফের একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসায়ীদের অন্যতম সৈয়দ আলী, রুবেল মিয়া, শাকিল খান, আব্দুর রশিদ, আব্দুস শহীদ, আবদাল মিয়া, সেলিম মিয়া, পারভিন আক্তার, তাহির মিয়া, জনাব আলী, কল্পনা আক্তার, রহমত আলী, দুলাল মিয়া, জাহির মিয়া, আল আমিন, শামসুন্নাহার, রাজিব মিয়া, আলী, নজরুল খান ও ফয়সাল খানসহ অনেকেরই নাম উঠেছে এসেছে। এছাড়া মাদক ব্যবসার পাশাপাশি চুরি ডাকাতির সাথে জড়িত তালিকায় আরো বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে। তাদের সকলের বাড়ি ২নং পুল বহুলা ও তেঘরিয়া  আবাসিক এলাকায়। এছাড়া সম্প্রতি শহরে পুলিশ সুপার কার্র্যালয়ের সামনে রবিদাস পাড়ায় মাদকের রমরমা ব্যবসা করে আসছে একটি চক্র। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশীয় চোলাই মদ, গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করছে। তাদেরকে মাদক ব্যবসা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় যুব সমাজ ধ্বংসের পথে বসেছে। স্থানীয়রা জানান, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শিবু রবিদাস, জীবন রবিদাস, সুবান্ত রবিদাস, অমৃত রবিদাস দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সামনে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, উল্লেখিতরা কয়েকদিন পূর্বেও পরিবার চালাতে হিমশিমে পড়েছিল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তারা মাদক ব্যবসা করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। সম্প্রতি শিবু রবিদাস মাদক মামলায় কারাগার বরণ করে। ওই মামলা থেকে জামিনের পর সে পুনরায় মাদক ব্যবসা করে আসছে। অন্যদিকে, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আব্দাবকাই ও হাতিরথান এলাকায় মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে একটি চক্র। এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি ফারুক মিয়ার নেতৃত্বে চক্রটি প্রতিদিন ইয়াবা বিক্রি করছে এবং চুনারুঘাটের ধলাইপাড় (চন্দনা) গ্রামের সুমন, শাওন, জলিল মিয়া, একই উপজেলার তৌহিদ, মাসুদ, শাহজাহানসহ অনেকেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 
অপর একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি ২নং পুল বহুলা ও তেঘরিয়া আবাসিক এলাকার শীর্ষ  মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি গোপন তালিকা প্রস্তুত করেছে প্রশাসন। এ তালিকায় বিভিন্ন ব্যক্তির নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই তালিকায় কয়েকজনকে মাদক ব্যবসায়ী, আবার কয়েকজনকে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি চুরি বা ডাকাতির সঙ্গে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় অংশেও কয়েকজন নারীকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় থাকা প্রায় ২৯ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে মাঝে-মধ্যে কিছু ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। গ্রেফতার  হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে আসার পর পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পরে জামিনে ছেড়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, বিক্রেতা ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা জরুরি।
এলাকাবাসী বলছেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হোক। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।