শহরের ঐতিহ্যবাহী কালীবাড়ি আবার আলোচনায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ভূমির কোন হদিস নেই
তারিখ: ১৩-মার্চ-২০১৩
জিয়া উদ্দিন দুলাল ॥ শহরের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কালীবাড়ি দীর্ঘদিন পর আবার আলোচনায় উঠে এসেছে। কালীবাড়ির প্রায় কোটি ২০ লাখ টাকার ভূমির কোন হদিস মিলছে না। নিয়ে শহরের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানা যায়, সুলতান মাহমুদপুর মৌজার, জে এল নং ১৭ এর অধীন ২৬৭২ দাগে .৫৫ একর বাড়ি রকম ভূমি এবং ২৬৭৩ দাগে .০৭৭৫ একর দোকান রকম ভূমি সেটেলমেন্ট জরিপে রেকর্ড ছিল। এতে মোট ভূমির পরিমাণ ছিল .৬২৭৫ একর। এর মধ্যে একটি পুকুর, কালী মন্দির, দূর্গা মন্দির, দোকান কোটা, ব্রাহ্মণকোয়ার্টারসহ অন্যান্য 'াপনা রয়েছে।

কিন' ৯৮ থেকে ২০০২ এর আর.এস জরিপে ২৬৭২ ২৬৭৩ দাগের ভূমি একত্র করা হয়। এতে মোট ভূমি দেখানো হয় .৫৮৫৬ একর। এখানে .০৪১৯ একর ( শতকের উপর) প্রায় কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ভূমির কোন হদিসই নেই। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়- গত ২০০৫ ইংরেজী সনে কালীবাড়ি কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে নেতারা দুই ভাগে ভাগ হয়ে পড়েন। ওই সময় সংকট নিরসনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুরোধে ৎকালীন জেলা প্রশাসক কালীবাড়ির দায়িত্ব নেন। জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে কালীবাড়ির কার্যক্রম পরিচালনাকল্পে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। এরপর থেকে এভাবেই কমিটি পরিচালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি কালীবাড়ির আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করে মন্দির সংশ্লিষ্ট নেতাদের হাতে কমিটির নেতৃত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জোর আলোচনা হচ্ছে।

কালীবাড়ির বর্তমান আহ্বায়ক জেলা প্রশাসক মনীন্দ্র কিশোর মজুমদারও চান ধর্মীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে কালীবাড়ির মতো একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব প্রশাসনের কর্মকর্তারা নন, সংশ্লিষ্ট সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হাতেই থাকুক।

গত ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় শহরের সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসক সনাতন ধর্মালম্বীদের নিয়ে সভায় মিলিত হন। ওই সভায় হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল ওয়াদুদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলমগীর হোসেন, সহকারী কমিশনার সেঁজুতি ধর, সহকারী কমিশনার কে এম সাইফুল আলম, সহকারী কমিশনার এইচ এম আরিফুল ইসলাম, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শংকর পাল, প্রফেসর নিখিল ভট্টাচার্য্য, অ্যাডভোকেট পূণ্যব্রত চৌধুরী বিভূ, অনুপ কুমার দেব মনা, প্রকৌশলী ফনীভূষণ দাশ, অ্যাডভোকেট নলিনী কানত্ম রায় নিরম্ন, ব্যবসায়ী জগদীশ চন্দ্র মোদক, ব্যবসায়ী শংখ শুভ্র, ব্যবসায়ী দুলাল সূত্রধর, অ্যাডভোকেট স্বরাজ বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট স্বদেশ বিশ্বাস, অহিন্দ্র কুমার দত্ত চৌধুরী, হীরেন্দ্র দত্ত প্রমুখ উপসি' ছিলেন।

ওই সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি পক্ষ কালীবাড়ির সামগ্রিক সমস্যা নিরসনে শিগগিরই কমিটি গঠনের প্রতি জোর দেন। আরেকটি পক্ষ কমিটি গঠনের পূর্বেই ভূমির সীমানা সংক্রান- জটিলতা নিরসন করে প্রায় কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ভূমি উদ্ধার কালীবাড়ির ভাড়াটিয়াদের ভাড়ার বিষয়টি পুনরায় নির্ধারণের প্রতি গুরুত্ব দেন।

প্রথম পাতা