দিদার এলাহী সাজু/আব্দুর রউফ সেলিম ॥
“শিশু মৃত্যুর সংবাদটি ষড়যন্ত্রমূলক, এটি পরিকল্পিত ডিজিটাল অপপ্রচার”
জাতীয় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইনে শিশুদের ভিটামিন “এ” টিকা খাওয়ানোর পর দেশব্যাপী গুজব ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স'ানে বহু শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মূহুর্তে এ খবর মুঠোফোনে ছড়িয়ে পড়ে শহর, বন্দর, গ্রামে। গুজব শুনে আতংকিত অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে ভীড় করেন বিভিন্ন হাসপাতালে। জেলার প্রতিটি সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধার পর থেকেই শত শত অভিভাবক শিশুদের নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে দেখা যায়- এক ব্যতিক্রমী চিত্র। আতংকিত কয়েক হাজার অভিভাবক তাদের শিশুদের নিয়ে আসেন হাসপাতালে। এসময় লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে পুরো হাসপাতাল এলাকা। অভিভাবকরা শুরু করেন কান্নাকাটি। সদর হাসপাতালের সকল ডাক্তাররা ছুটে আসেন নিজ নিজ চেম্বারে। আউটডোরের সবকটি রুম খোলে দেয়া হয় শিশুদের চিকিৎসার জন্য। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন জেলা প্রশাসক মনীন্দ্র কিশোর মজুমদার, জেলা পরিষদ প্রশাসক ডাঃ মুশফিক হুসেন চৌধুরী, পৌর মেয়র আলহাজ্ব জিকে গউছ, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর আবিদুর রহমান, সদর মডেল থানার ওসি মোজাম্মেল হকসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সন্ধা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন- হাজার হাজার অভিভাবক তাদের শিশুদের নিয়ে পাগলের মত ছুটে আসেন চিকিৎসার জন্য। অনেক অভিভাবককে দেখা যায়, তার শিশুকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে এসেছেন, হাসপাতালে তখনও শিশুটি ঘুমুচ্ছিল। এসময় উৎসুক জনতা, শিশুদের অভিভাবক ও মিডিয়াকর্মীদের ভীড় সামলাতে হিমসিম খেতে হয় পুলিশ প্রশাসনকে। পরে জানা যায়, ঘটনাটি একেবারেই গুজব। গুজবে শুধু মাত্র অসচেতন সাধারণ মানুষই আতংকিত হননি। অনেক শিক্ষিত সচেতন মানুষও তাদের শিশুদের নিয়ে আসেন হাসপাতালে। এসময় কেউ কেউ বিষয়টিকে গুজব বলে অভিভাবকদের বুঝানোর চেষ্টা করতে চাইলে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন অভিভাবকরা। এ বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, কয়েক হাজার শিশুর মধ্যে একজন শিশুকেও অসুস'্য বলে মনে হয়নি। তবে অনেক অভিভাবক জানান, ভিটামিন এ প্লাস টিকা খাওয়ানোর পর তাদের শিশুরা বমি করেছে এবং পেট ফাঁপা রোগে আক্রান- হয়েছে। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, বিচ্ছিন্নভাবে দু’একজন শিশুর মধ্যে এ রকম লক্ষ্মণ পাওয়া গেলেও, ভিটামিন এ প্লাস খাওয়ানোর সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। শিশু অসুস'্য হওয়া বা মারা যাওয়ার বিষয়টি গুজব। তিনি জানান, অতিরিক্ত গরমে কোন কোন শিশু বমি করে থাকতে পারে, তবে তা আশংকাজনক কিছু নয়। তিনি আরও জানান- আতংকিত অভিভাবরা শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে আসলেও কোন ধরণের আশংকা না থাকায় কাউকে ভর্তি করা হয়নি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মনীন্দ্র কিশোর মজুমদার জানান- বিষয়টি স্রেফ গুজব। কোন শিশু মারা যায়নি। এদিকে, আতংকিত মানুষকে শান-না দিতে জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে গাড়িযোগে সারা শহরে মাইকিং করা হয়েছে। মাইকিংয়ে বলা হয়েছে, ঘটনাটি স্রেফ গুজব, গুজবে কান দিবেন না। সদর হাসপাতালের সামনেও বিষয়টি গুজব বলে হ্যান্ড মাইকে প্রচারণা চালানো হয়েছে। তারপরও বিশ্বাস রাখতে পারেননি অভিভাবকরা। প্রিয় সন-ানকে চিকিৎসা করাতে হয়ে উঠেন ব্যাকুল। চিকিৎসকরাও তখন আঁচ করতে পারেন অভিভাবকদের আবেগ-অনুভূতি। তারা তখন আগত প্রত্যেক শিশুকেই “থেটেস্কোপ” লাগিয়ে শান-না দেন অভিভাবকদের। চিকিৎসকের দর্শন ও পরশ পাওয়ার পর তবেই কেবল হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন অভিভাবকরা। সচেতন মানুষ বলছেন, এটি একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পিত ডিজিটাল অপপ্রচার। জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস টিকা কর্মসূচীকে ব্যর্থ করে দিতেই এমন গুজব ছড়ানো হয়েছে। রাত ১২ পর্যন- হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে কোন শিশুর অসুস'্যতা খোঁজে পাননি চিকিৎকরা। জেলার অন্যান্য স'ান থেকেও আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কোন শিশুকে অসুস'্যতার জন্য ভর্তি করা হয়নি।