দিদার এলাহী সাজু ॥
অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে এখনও কাটেনি আলিফ সোবহান চৌধুরী সরকারী কলেজের অচলাবস্থা। কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফজলুর রহমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে পদত্যাগ করেও অবৈধভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কলেজ ক্যাম্পাস। বিক্ষোব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ গেটে আবারও ঝুলিয়েছে তালা।
জানা যায়, সম্প্রতি অবসরোত্তর ছুটি (চড়ংঃ জবঃরৎবসবহঃ খবধাব) গ্রহণ করেন বাহুবল উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ মিরপুরস্থ আলিফ সোবহান চৌধুরী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আমির উদ্দিন। এ অবস্থায় গত ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয় কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফজলুর রহমানকে। কিন্তু ফজলুর রহমান আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে কলেজ গেটে তালা ঝুলিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান ও বিদায়ী অধ্যক্ষ মোঃ আমির উদ্দিন সহ অন্যান্য শিক্ষকদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষোব্ধ শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার দিকে দায়িত্বগ্রহণের মাত্র ৪ ঘন্টার মাথায় ফজলুর রহমান পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কিন্তু পদত্যাগের ৩ দিনের মাথায় গত ১ ডিসেম্বর অধ্যক্ষের আসনে বসে অবৈধভাবে দাপ্তরিক কাজ করার চেষ্টা করেন ফজলুর রহমান। এতে নতুন করে আবারও দেখা দেয় উত্তেজনা; উত্তপ্ত হয়ে উঠে কলেজ ক্যাম্পাস। এরই ধারাবাহিকতায় গত (৪ ডিসেম্বর) রবিবার আবারও কলেজ গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় বিক্ষোব্ধ শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, গত প্রায় এক সপ্তাহ যাবত অধ্যক্ষ না থাকায় কার্যত অভিভাবকহীন হয়েপড়েছে কলেজটি। বিষয়টি নিয়ে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও এলাকাবাসীর মধ্যেও বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। এ অবস্থায় উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করার স্বার্থে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মাহবুবুর রহমান অথবা সহকারী অধ্যাপক হোসাইন আহমদ কে দায়িত্ব দেয়ার জোরদাবী জানিয়েছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার কলেজটির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এলাকার কোন শিক্ষককে দায়িত্ব দেয়ারও দাবী জানান।