আখলাছ আহমেদ প্রিয় ॥
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনে লড়ছেন ৬ জন প্রার্থী। এর মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ৩ জন। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিযা, স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলী। এছাড়া ওই আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত বদরুর রেজা, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ। এর মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে তিনি। এর আগে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এবারও জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ায় বেশ আলোচনায় রয়েছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামা অনুযায়ী ড. রেজা কিবরিয়ার বাৎসরিক আয় ৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এছাড়া ৩ কোটি ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৬ টাকার অস্থাবর ও ১ কোটি ৭৫ লাখ ১৫ হাজার স্থাবর সম্পত্তির মালিক তিনি। সব মিলিয়ে তিনি ৫ কোটি ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক।
অন্যদিকে, তার উপর নির্ভরশীলদের বাৎসরিক আয় ২৪ লাখ ৩ হাজার ৬৪৬ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর ৩ কোটি ২৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৩ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পত্তি ও ১২৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে এবং তিনি ২ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক। হলফনামা বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে। ড. রেজা কিবরিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা ডক্টর অফ ফিলোসফি (ডি.ফিল)। অর্থ্যাৎ তিনি সর্বোচ্চ ডক্টরাল ডিগ্রী অর্জন করেছেন।
হলফনামা অনুযায়ী ড. রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। হলফনামায় বলা হয়েছে, ড. রেজা কিবরিয়ার নগদ টাকার পরিমাণ ৩ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৮৩৬ টাকা। আসবাবপত্র ২ লাখ ৫৫ হাজার, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ২ লাখ, স্বর্ণ ও অন্যান্য মুল্যবান ধাতু ৫ লাখ ১০ হাজার, যানবাহন বাবদ ১০ লাখ, ৩ একর ১০ শতক জায়গার মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ ১৫ হাজার ও ২৫ লাখ টাকার অকৃষি জমি রয়েছে। তার বাৎসরিক আয়ের মধ্যে বাড়ি/এপার্টমেন্ট/দোকান ও অন্যান্য ভাড়া বাবদ বাৎসরিক আয় ৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।
একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ইংল্যান্ড প্রবাসী ব্যবসায়ী শেখ সুজাত মিয়া ৬ কোটি ৭১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৫২৯ টাকা মূল্যের সম্পত্তির মালিক। তার বছরে আয় ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। শেখ সুজাত মিয়া বিগত ১৯৯৬ সনের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচন ও ২০১১ সনে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়নে নির্বাচিত হন। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়াই করছেন। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার নামে ৫টি মামলা ছিল। তন্মধ্যে ৪টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন এবং একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারী এডুকেশন সম্পন্ন করেন। এ প্রার্থীর স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ৫ কোটি ৪৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের (অর্জনকালীন মূল্য) কৃষি জমি, ১২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি, ১২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। তার স্ত্রীদের মালিকানায় কোন সম্পত্তি নাই। অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষক মোহাম্মদ বদরুর রেজা ৯২ হাজার ৯০৪ টাকা মূল্যের সম্পত্তির মালিক। তার স্ত্রীর নামে কোন সম্পত্তি নাই। তার পেশাগত খাত থেকে বছরে আয় ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৩ টাকা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনিত এ প্রার্থীর হলফনামায় এসব তথ্য দিয়েছেন। কামিল ডিগ্রীধারী ৪২ বছর বয়সী এ প্রার্থীর হাতে কোন নগদ টাকা নেই। ব্যাংকে আছে তার ২ হাজার ৯০৪ টাকা। এছাড়া ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ১ তোলা স্বর্ণ, ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেক্ট্রনিক পণ্য ও ৩০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে। দাখিলকৃত হলফনামা মতে তার নামে জমিজমা, বাড়ি, গাড়িসহ কোন প্রকার স্থাবর সম্পত্তি নাই।
এদিকে, জায়ায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলী ২৫ লক্ষ ৪ হাজার ৬৩৫ টাকা মূল্যের সম্পত্তির মালিক। শেয়ার, বন্ড/ সঞ্চয়পত্র/ ব্যাংক আমানত এবং চাকুরী থেকে তার বছরে ৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৮৫ টাকা আয় হয়। তার শিক্ষিকা স্ত্রীর মালিকানায় ১৮ ভরি স্বর্ণ ছাড়া কোন সম্পত্তি নাই। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন তার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা ছিল। ইতোমধ্যে তিনি ১৯টি মামলা থেকে অব্যাহতি, ১৪টি মামলা থেকে খালাস ও একটি মামলায় জামিনে আছেন। এছাড়া ৩টি মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৪ টাকা মূল্যের ১৭ শতক ৩২ লিংক কৃষি জমি রয়েছে তার নামে। এমএ পাস এ প্রার্থীর হাতে নগদ আছে ২১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৬৭৬ টাকা ও ব্যাংকে জমা আছে ৬১ হাজার ৯৮৫ টাকা। এছাড়া তার ৩০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ১ লক্ষ টাকার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী আছে।
খেলাফত মসলিসের প্রার্থী খ্যাতিমান ইসলামী বক্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম (মিরপুরী) ১ কোটি ৭৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার ৩৩৮ টাকা মূল্যের সম্পত্তির মালিক। ব্যবসা থেকে তার আয় বছরে ৭ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। হলফনামায় তিনি তার পেশা এবং তার উপর নির্ভরশীল এক কন্যার পেশা শিক্ষকতা উল্লেখ করলেও পেশাগত খাত থেকে তাদের কোন আয় উল্লেখ করেননি। মোঃ সিরাজুল ইসলাম-এর কাছে নগদ ৮ লক্ষ ৮০ হাজার ৫৩৯ টাকা ও ব্যাংকে আছে ৭ হাজার ৩৪৯ টাকা। ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা (অধিগ্রহণকালীন) মূল্যের ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ লাখ টাকা মূল্যের টিভি-ফ্রিজ ও ১ লাখ টাকা মূল্যের খাট-পালং-সোফা রয়েছে। তাছাড়া তার নামে ব্যাংক লোন আছে ২৯ লক্ষ ১ হাজার ৩৯৩ টাকা। এছাড়া তার ১০ লক্ষ ৬৩ হাজার ১৫০ টাকা মূল্যের (অর্জনকালীন মূল্য) ০.৫৫ একর কৃষি জমি, ২৯ লক্ষ ১৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের ০.২১৯৫ একর অকৃষি জমি ও ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের বাড়ি/ এপার্টমেন্ট রয়েছে এবং দৈনিক দেশবার্তা পত্রিকার সম্পাদক কাজী তোফায়েল আহমেদ ৪৭ লাখ ১ হাজার টাকা মূল্যের সম্পত্তির মালিক। তার বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পত্তি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) মনোনিত প্রার্থী হিসেবে দাখিল করা হলফনামায় তিনি এসব তথ্য দিয়েছেন। হলফনামা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যাচাই-বাছাইকালে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন তার নামীয় ৫ একর কৃষি জমির অর্জনকালীন মূল্য ১৫ হাজার টাকা, ৩ একর অকৃষি জমির অর্জনকালীন মূল্য ৬ হাজার টাকা ও পৈত্রিক বাড়ির মূল্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। তার নিজের কাছে নগদ অর্থ আছে ৫ লক্ষ টাকা এবং স্ত্রী কাছে নগদ আছে ৩০ হাজার টাকা। কাজী তোফায়েল আহমেদ-এর ব্যাংক হিসেবে আছে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ব্যাংকে স্থায়ী আমানত আছে ১২ লক্ষ টাকা। ইলেক্ট্রনিক পণ্য আছে ৬ লক্ষ টাকার ও আসবাবপত্র আছে ৩ লক্ষ টাকার এবং তার স্ত্রীর ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের একসেট গহনা আছে। ওই আসনের ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে অর্থবৃত্তে এগিয়ে রয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া।