হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কাটিহারা (বর্তমানে বামৈ পশ্চিম) গ্রামের একটি জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধে জালিয়াতির মাধ্যমে ডিগ্রি নেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট আপিল মামলায় আদালত আগের রায় ও ডিক্রি বাতিল করেছেন। জানা যায়, কাটিহারা গ্রামের এসএ খতিয়ান নং-৮২৯ ও এসএ দাগ নং-৬০১৯-এর রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন অধরচন্দ্র দেবনাথ। তিনি ভোগদখল থাকা অবস্থায় ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই আনরেজিস্ট্রি কবলামূলে উক্ত ভূমি জারু মিয়ার নিকট বিক্রি করেন। পরবর্তীতে জমির কিছু অংশ আরএস রেকর্ডে ঝাড়ু মিয়ার নামে লিপিবদ্ধ হয়।
পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি লাখাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১০০ নং দলিলমূলে খরিদাসূত্রে হাজী জহুর আলীর পুত্র ইসমাইল ও মুহিবুল ইসলাম গং জমির মালিক হন। এসএ ও আরএস রেকর্ডে তাদের নামে নামজারি সম্পন্ন হয় এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখলে রেখে আসছেন।
এদিকে জমির কিছু অংশ অর্পিত সম্পত্তির ‘খ’ তালিকাভুক্ত হলে ইসমাইল বাদী হয়ে অর্পিত সম্পত্তি ও নালিশা ভূমি সংক্রান্ত মামলা নং-১৬০৫/১২ দায়ের করেন। ওই মামলায় লাখাই সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত শেষে ইসমাইল গংদের স্বত্ব ও দখলের পক্ষে প্রতিবেদন দেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট জেলা অর্পিত সম্পত্তি কমিটি উক্ত জমিকে অর্পিত সম্পত্তি নয় বলে ঘোষণা দেয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ৪১৬/৭৫ নং মামলার প্রকৃত বাদী ছিলেন আবু মিয়া এবং বিবাদী ছিলেন মজনু মিয়া। কিন্তু কাটিহারা (বর্তমানে বামৈ পশ্চিম) আবেদা খাতুন ও তার পুত্র আব্দুল মমিনকে বাদী এবং অধরচন্দ্র দেবনাথকে বিবাদী দেখিয়ে একই মামলার নম্বর ব্যবহার করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে এবং আদালতের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে কোর্ট রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে একতরফা ডিগ্রি নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ প্রেক্ষিতে ইসমাইল মিয়া গং বিবাদীগণ সহকারী জজ আদালত, লাখাই, হবিগঞ্জে স্বত্ব আপিল মামলা নং-১৩৭/১৫ দায়ের করেন। মামলাটি গত ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি শুনানি শেষে ৪ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে আদালত ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বরের রায় এবং ২৭ নভেম্বরের ডিক্রি বাতিল করেন। একই সঙ্গে স্বত্ব আপিল মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ১৫৭/১৫ নং মোকদ্দমা স্থগিত রাখার আদেশ দেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।