চুনারুঘাটে আফছার আহমদ তালুকদার মহিলা দাখিল মাদরাসায় কমিটি গঠনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
তারিখ: ৫-অগাস্ট-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

চুনারুঘাট উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের চলিতারআব্দা গ্রামে আফছার আহমদ তালুকদার মহিলা দাখিল মাদরাসায় পরিচালনা কমিটি গঠন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক, সচেতন নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সোমবার (৩ আগষ্ট) জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার চলিতারআব্দা গ্রামের আশরাফুল আলম। এর আগে গত ২৩ জুলাই উজ্জল তরফদার নামে একজন স্থানীয় নাগরিক মাদরাসার কমিটি গোপনে করা হচ্ছে মর্মে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। 
অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদরাসার পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া গোপনে সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে স্থানীয় অংশীজনদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বর্তমানে মাদরাসার এডহক কমিটির সভাপতি সায়েম আহমদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুনরায় তরিগরি করে সাবেক কমিটির সভাপতি আফছার আহমদ তালুকদাকে বিধিবর্হিভূত সভাপতি সাজিয়ে কমিটি শিক্ষা অফিসে জমা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ, কমিটির নীতিমালায় উল্লেখ একজন ব্যক্তি পরপর দুইবারে বেশি সভাপতি থাকতে পারবেন না, কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আফছার আহমদ তালুকদার ২০১০ সাল থেকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আপন বড় ভাইকে পুনরায় সভাপতি বানাতে মাদরাসার সুপার হাবিব আহমদ তালুকদার দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, মাদরাসার সহকারি শিক্ষক রেজাউল করিম চাকুরী থেকে অব্যাহতি না নিয়ে গত তিন বছর লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং মাদরাসার সুপার কৌশলে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে ভোগ করছেন। শুধু তাই নয়, সহকারি শিক্ষক এনামুল হক গত প্রায় ১৩ মাস যাবত গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই অনুপস্থিত রয়েছেন, তবে বেতন-ভাতা ঠিক নিচ্ছেন। তবুও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সুপার।  
অভিযোগে আরো উল্লেখ, সহকারি শিক্ষক জাহানারা বেগম মাদরাসা সুপার হাবিব আহমদ তালুকদারের ভাবি, নিরাপ্তা কর্মী আশিক আহমদ সুপারের ভাতিজা, দপ্তরি আমিনা বেগম ও আয়া রেজিয়া বেগম সুপারের বড় বোন এবং মাদরাসা এডহক কমিটির সভাপতি সায়েম আহমদ তালুকদার সুপারের ভাতিজা। একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য বর্তমানে মাদরাসায় কর্মরত রয়েছেন, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে মাদরাসা সুপার হাবিব আহমদ তালুকদার বলেন, এখানে নিয়মবর্হিভূ কোনো কাজ হয়নি, বিধি অনুযায়ী কমিটি হয় এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়। 
আরেক প্রশ্নের জবাবে সুপার বলেন, সহকারি শিক্ষক এনামুল হক গত তিন মাস যাবত অনুপস্থিত থাকায় তাকে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ দিলে তিনি জবাব দিয়েছেন এবং সহকারি শিক্ষক রেজাউল করিম নীতিমাল মেনে প্রথম ১ বছরের ছুটি নেন, পরবর্তীতে আরো এক বছর অর্ধেক বেতনে ছুটি কাটান এবং বর্তমানে তিনি বিনাবেতনে ছুটিতে রয়েছেন। 
উপজেলা শিক্ষা অফিসার কাউছার শোকরানা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  স্থানীয়রা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রথম পাতা