সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজনের সঙ্গে নার্স কুলসুমার গোয়ার্তুমি
তারিখ: ৩-অক্টোবর-২০২৬
দিদার এলাহী সাজু ॥

হৃদরোগী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জরুরি চিকিৎসার জন্য ছুটছেন স্বজন। কিন্তু নার্সিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল গ্রিলের দরজায় তালা, ভেতরের দরজাটিও বন্ধ। চিকিৎসকের কাছে গেলে তাঁকে নার্সের কাছে পাঠানো হয়। নার্স জানান, এটি তাঁর কাজ নয়, তিনি এখন ‘রিল্যাক্স’ করছেন।
রোগীর স্বজনের দাবি,  নার্স কুলসুমা আক্তার তাঁর সঙ্গে বকাবকি ও  অশোভন আচরণ করেন। এমনকি রোগী মরে গেলেও যাবেন না বলে জানান। প্রায় আধা ঘণ্টা পর অন্য একজন নার্স এসে রোগীর বিপি পরীক্ষা করেন। ঘটনাটি ঘটে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের অষ্টম তলার ৮১২ নম্বর কেবিনে। 
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে ওই কেবিনে ভর্তি হৃদরোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে বিপাকে পড়েন তাঁর স্বজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রোগীর স্বজনের ভাষ্য,  অবস্থার অবনতি দেখে প্রথমে অষ্টম তলার নার্সিং স্টেশনে যান। কাউকে না পেয়ে নিচতলার জরুরি বিভাগে গিয়ে ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ভিক্টরকে বিষয়টি জানান। 
চিকিৎসক বলেন, জরুরি বিভাগে তিনি একা থাকায় অফিস ফেলে যেতে পারবেন না। তবে অষ্টম তলায় নার্স থাকার কথা জানিয়ে নার্সকে ডেকে রোগীর বিপি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন।
'এটা আমার কাজ নয়, ডাক্তারের কাজ—আমি এখন রিল্যাক্স করছি’
তিনি জানান, দীর্ঘ সময় গ্রিলের দরজায় নক করার পর নার্স কুলসুমা আক্তার বের হন। দ্রুত বিপি পরীক্ষা করার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, “এটা আমাদের কাজ না, ডক্টরের কাজ। আমি এখন রিল্যাক্স করছি।”
চিকিৎসক ভিক্টর নার্সকে ডেকে বিপি পরীক্ষা করাতে বলেছেন জানালেও তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানান। স্বজনের দাবি, এ সময় তিনি বকাবকি, অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করেন।
'রোগী মরে গেলেও
আমি যাব না'
রোগীর স্বজনের আরও দাবি, শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে কেবিনে গিয়ে রোগীকে দেখে আসার অনুরোধ করা হলেও নার্স যেতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “রোগী মরে গেলেও আমি যাব না।”
'এ হাসপাতালে 
আমিই সবার সিনিয়র’
তিনি জানান, অনাকাঙ্খিত এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম জানতে চাইলে নার্স বলেন, “এ হাসপাতালে আমি সবার সিনিয়র। আমার উপর কোনো সিনিয়র নেই।”
'প্রায় আধা ঘণ্টা পর
রোগীর বিপি পরীক্ষা'
স্বজনের বর্ণনা অনুযায়ী, কুলসুমা আক্তার রোগী দেখতে না যাওয়ায় প্রায় আধা ঘণ্টা পর অন্য একজন নার্স এসে বিপি পরীক্ষা করেন। পরে বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার রাজীবকে জানালে তিনি আরএমও'র কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন।
'নার্সের বিরুদ্ধে মানসিক অসুস্থতার অভিযোগ'
রোগীর ওই স্বজন বলেন, ঘটনার সময়ের   কথাবার্তা, চলন-বলন ও আচরণ দেখে মনে হয়েছে, নার্স স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না। মনে হয়েছে তিনি  মানসিকভাবে অসুস্থ। 
'ভিডিও ফুটেজে নার্সিং স্টেশনে তালা'
এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।  প্রায় চার মিনিটের ভিডিও ফুটেজে নার্সিং স্টেশনের সামনে কাউকে দেখা যায়নি। গ্রিলের দরজায় তালা এবং ভেতরের দরজাটিও বন্ধ দেখা যায়। এছাড়াও ভিডিওতে দেখা যায় অভিযুক্ত নার্স কক্ষের ভিতরে দাঁড়িয়ে চিৎকার চেচা-মেচি করছেন।  
'২৫০ শয্যার হাসপাতালে জরুরি সেবা নিয়ে প্রশ্ন'
সচেতন মহল মনে করেন, একজন হৃদরোগী ভোরে অসুস্থ হওয়ার পর নার্সিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সকে না পাওয়া, নার্স স্টেশনের দরজায় তালা,  বিপি পরীক্ষা করতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগা এবং স্বজনের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে হাসপাতালের জরুরি সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়াও চিকিৎসকের নির্দেশের পরও রোগীর কাছে নার্স না যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
'হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য' 
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল হক সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি এক কথায় দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে জানান, লিখিত অভিযোগ দিলে ওই নার্সের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।