আখলাছ আহমেদ প্রিয় ॥
দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে সুন্দরের সাধনা ও গণমানুষের সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে ঐতিহ্যবাহী সংগঠন চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ। দুই দিন ব্যাপী বর্ণিল আয়োজনের মধ্যে দিয়ে ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে সংগঠনটি। গতকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) শেষ দিন সন্ধ্যায় চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় জন্মোৎসব উপলক্ষে ধামাইল, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী।
চুনারুঘাট সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সৈয়দ মো. ফয়সল ও জেলা প্রশাসক ড. জি.এম. সরফরাজ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী এমপি বলেন-আমরা যেভাবে খাই-দাই, যেভাবে পোশাক পরি, যেভাবে জীবনযাপন করি, খেলি-নাচি-গান গাই, সাহিত্য রচনা করি, আমাদের জীবনের সমস্ত কর্ম এমনকি রাজনীতি; সবকিছুই সংস্কৃতির অংশ। এই যে সংস্কৃতি, এটা কোন ব্যক্তি তৈরি করতে পারে না। সংস্কৃতি তৈরি করার প্রশ্নটিই একটি সমষ্টিগত বিষয়। ঐক্য ছাড়া, সমষ্টিগত চর্চা ছাড়া সংস্কৃতি তৈরি হয় না।” সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি বলেন-আমাদের সরকার মাত্র ৭ মাস হল ক্ষমতা হাতে পেয়েছে। একটা দীর্ঘ সময় আমরা লড়াই করেছি। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করে আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছি। বিরাট সমস্যা সংকুল অবস্থার মধ্যে দিয়ে আমরা আছি। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া সমস্ত সমস্যা মাথায় নিয়ে আজকে আমাদের পথ চলতে হচ্ছে। দিনরাত পরিশ্রম করে তারেক রহমান ও তার সহযোগী হিসেবে আমরা বাংলাদেশকে বিনির্মাণের জন্য চেষ্টা করছি’।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চুনারুঘাটে সাহিত্য-সংস্কৃতির উন্নয়নে করা সংগঠনটির সবাইকে অভিনন্দন জানাই। যেহেতু অনুষ্ঠানে ২ জন প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত আছেন, সে কারণে আমি কথা বাড়াতে চাই না। তবে আমি যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আছি, সেক্ষেত্রে আমাকে চুনারুঘাটের উন্নয়নে যুক্ত করতে চাইলে আমি সাথে থাকবো’। রাতে নাটক চন্দ্রাবতী রচিত ‘মলুয়া’ ও প্রখ্যাত শিল্পী লাভলী দেবের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় সংগীতানুষ্ঠান ও গাজীর গীত। বর্ণিল আয়োজন উপভোগ ভীড় করেন নানা বয়সী দর্শকরা।