আজিজুল হক সানু, বাহুবল \ বাহুবল
থানা জামায়াতে
ইসলামীর আমীর
ডাঃ আব্দুল
ওয়াদুদ আর
নেই।
তিনি গতকাল
শুক্রবার ভোর
৫টায় সিলেট
ওসমানী মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে
ইন্তেকাল করেন। ইন্না
লিল্লাহি ওয়াইন্না
ইলাইহি রাজিউন। তিনি
দীর্ঘদিন প্যারালাইসিস
রোগে ভোগছিলেন। তিনি
২ ছেলে
ও ১
মেয়েসহ অসংখ্য
গুনগ্রাহী রেখে যান।
জন্ম : ডাঃ আব্দুল ওয়াদুদ গত ১৯৫৫ইং সনের ২ মে নবীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ গজনাইপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন মরহুম আঃ কবির। ৩ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। নিজ এলাকায় লেখাপড়া শুরু থেকে শেষ করেন। স্থানান্তর : ১৯৭৯ই সনে ব্যবসায়ীক কাজে চলে আসেন বাহুবল উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায়। সেখানে সেন্ট্রাল ফার্মেসী নামে ফার্মেসী ব্যবসা পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে ছদরুল হোসেন বালিকা স্কুলের পাশে কিছু ভূমি নিয়ে সেখানে বাসা তৈরি করে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। কর্মময় জীবনের শেষ সময়টুকুও কাটান বাহুবলে।
আমীরের দায়িত্বকাল : ডাঃ আব্দুল ওয়াদুদ ১৯৮২ইং সন হতে বাহুবল থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০০৬ইং সনের ২৬ এপ্রিল রাতে হঠাৎ স্ট্রোক করে নিজ বাসাতেই অবস্থান করছিলেন। স্ট্রোকের পর প্যারালাইসিস রোগ সৃষ্টি হওয়ার পর বাসা থেকে আর বেরুতে পারেননি।
সাংবাদিকতা : আঃ ওয়াদুদ শুধু ব্যবসা পরিচালনার কাজে ব্যস্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী। এ ছাড়াও তিনি দৈনিক সংগ্রাম ও দৈনিক সোনার বাংলা পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুবাদে বাহুবল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।
জানাযা : গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা মরহুমের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় বাহুবল কাসিমুল উলুম কওমী মাদ্রাসা মাঠে। শেষ বিদায় প্রাক্কালে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির সংগঠনের নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক তার পাশে থাকতে দেখা যায়। সেই প্রিয় নেতাকে হারিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদন প্রকাশ করতে থাকেন। জানাযার নামাজ পড়ান জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমান। এতে উপস্থিত ছিলেন- খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা আব্দুল বারি আনচারী, মাওলানা মকবুল হোসেন, বিএনপি সভাপতি আকাদ্দুছ মিয়া বাবুল, খেলাফত মজলিসের জেলা সাংগাঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম জাকী, জামায়াতে ইসলামীর বাহুবল থানা সভাপতি প্রভাষক ছাদিকুর রহমান, জামায়াত নেতা আঃ রউফ বাহার, জালাল উদ্দিন আখঞ্জি, হাফেজ রকিব, ইসমাইল হোসেন, এটিএম তামিম, ইকবাল হোসেন প্রমুখ। জানাযা শেষে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাযার নামাজে সহস্রাধিক লোকের সমাগম ঘটে।
ব্যক্তিময় জীবন : ব্যক্তিময় জীবনে ডাঃ আব্দল ওয়াদুদ ছিলেন একজন পরীক্ষিত ব্যক্তি। ব্যবসায়ীক কাজের ফাঁকে তিনি জীবনের অধিকাংশ সময়ই ইসলামী আন্দোলনের কাজে সময় দিয়েছেন। যার প্রমাণ মৃত্যুর তারিখে প্রমাণ করছে।
শোক প্রকাশ : বাহুবল থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ আব্দুল ওয়াদুদ এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর বাহুবল থানা সভাপতি প্রভাষক ছাদিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কাজী আঃ রউফ বাহার, সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি মহি উদ্দিন আখঞ্জি, জালাল উদ্দিন আখঞ্জি, সাবেক থানা জামায়াত্ েইসলামীর সভাপতি ডাঃ সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমীক কল্যাণ ফেডারেশন এর জেলা সভাপতি নুরুন্নবী ফয়ছল, বাহুবল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আব্দুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক সানু, সহ-সভাপতি হাফেজ আঃ রকিব।