স্টাফ রিপোর্টার ॥
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন, অরবিস ইন্টারন্যাশনাল এবং মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল-এর সহযোগিতায় হবিগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থার পানিউমদা শাখা অফিসে গতকাল ছানী রোগী বাছাই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন লন্ডন প্রবাসী, ইংল্যান্ড বাঙালি কমিউনিটি লিডার শামস উদ্দিন আহমেদ এম.বি.ই সভাপতি, চেশায়ার ওয়েস্ট অ্যান্ড চেস্টার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন।
উক্ত ক্যাম্প শেষে গতকালই ছানী রোগীদের মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে চোখের ছানী অপারেশন করা হয়। গতকাল দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে প্রায় ৬ শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে চোখের ছানি অপারেশনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল মৌলভীবাজারের মেডিকেল অফিসার ডাঃ এমরান আলম জানান, ছানি রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিহ্নিত করে আজকেই মৌলভীবাজারে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে সরকারি ও বেসরকারি দাতা সংস্থাগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। পানিউমদা গ্রামের চোখের ছানী রোগে ভুক্তভোগী কলসু মিয়া জানান আমি দীর্ঘদিন যাবৎ চোখের ছানি রোগে ভুগতেছি টাকার অভাবে অপারেশন করাতে পারতেছিলাম না। হবিগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থার ফিল্ড অফিসার বিপ্লব সরকারের মাধ্যমে জানতে পারলাম সংস্থা থেকে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করিয়ে দেওয়া হবে। তাই আজকে এখানে আসলাম। ডাক্তার বললেন আমাকে আজকেই মৌলভীবাজার নিয়ে অপারেশন করবেন। আমরা এই ক্যাম্প থেকে একসাথে ৪৭ জন বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করব।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই বলেন; বেসরকারি সংস্থাগুলো দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে দুর্যোগকালীন সময়ে তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। হবিগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থাও এর ব্যতিক্রম নয়; তারা বিভিন্ন সময় বন্যার্ত মানুষের পাশে থেকে মানবসেবায় অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে।
সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রোটারিয়ান মোহাম্মদ শাহীন এর সাথে যোগাযোগ হলে তিনি জানান, “হবিগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থা গত ২৫ বছর ধরে জেলার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই সমাজের প্রতিটি মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করুক। এরই ধারাবাহিকতায় দরিদ্র মানুষের জন্য চক্ষুসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি।” তিনি এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সংস্থার সহ-সমন্বয়কারী মনিটরিং শামীম আহমেদ মহসিন বলেন আমাদের সংস্থার মাধ্যমে আমার নিজ এলাকায় এই সেবামূলক কার্যক্রম করে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমরা সব সময়ই হবিগঞ্জ জেলাসহ আমার এলাকার দরিদ্র মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। সংস্থা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম ছাড়াও রেইজ প্রকল্পের আওতায় জেলার তরুন তরুণীদের বিভিন্ন টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থাম সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬মাস মেয়াদী ফ্রি প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণকালীন প্রশিক্ষণার্থীদের ২১০০০/- হারে বৃত্তি ও প্রশিক্ষকদের ১৮০০০/- টাকা হারে সম্মানি প্রদান করা হয়। এছাড়াও সংস্থা সামাজিক খাতকে প্রাধান্য দিয়ে সেবামূলক কার্যক্রম তথা বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, বিনামূল্যে আইন-সহায়তা, দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, গৃহনির্মাণ সুবিধা, ক্রীড়াসামগ্রী প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, বিভিন্ন ক্লাবে আর্থিক সহযোগিতা'সহ নানান ধরণের সামাজিক কার্যক্রম করে থাকে।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে চোখের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। একাধিক বুথে প্রায় ৬ শতাধিক নারী-পুরুষকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি অপারেশন শেষে ছানী রোগীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র, ওষুধ এবং চশমাও প্রদান করা হয়।