স্টাফ রিপোর্টার ॥
শায়েস্তাগঞ্জে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ছেলের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার আক্তার (৩৭) পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত অন্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুনারুঘাট থানার এসআই মোহাম্মদ তারেক নাজির জেলা কারাগারে আটক আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আক্তার হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উচাইল এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ সদর, শায়েস্তাগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও সিলেটের দক্ষিণ সুরমাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছিনতাইকারী চক্রের মূল টার্গেট ছিল ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তিরা, বিশেষ করে নারীরা। ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বের হওয়ার পর তাদের অনুসরণ করে সুযোগ বুঝে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিত চক্রটি। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নের উবাহাটা গ্রামের হুসাইনিয়া মাদ্রাসার পেছনে ইউনুছ মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে রাহেলা জেসমিন আখঞ্জি ও তার ছেলে ফেরদৌস ফাহিমের পথরোধ করে ছিনতাইকারীরা।
এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাতনামা তিন দুর্বৃত্তের মধ্যে দুজন নেমে দেশীয় ধারালো অস্ত্র (দা) ফেরদৌস ফাহিমের গলায় ঠেকিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। পরে রাহেলা জেসমিন আখঞ্জির কাছে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আক্তারের সঙ্গে সাদৃশ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় দা, একটি চাইনিজ চাকু, পোশাক ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়, যা মামলার ঘটনার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। এছাড়া আদালতের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত শনাক্তকরণ মহড়ায় (টিআই প্যারেড) মামলার বাদী রাহেলা জেসমিন আখঞ্জি ও তার ছেলে ফেরদৌস ফাহিম গ্রেপ্তার আক্তারকে শনাক্ত করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ তারেক নাজির জানান, ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর আসামিদের শনাক্ত করতে আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।