বানিয়াচং প্রতিনিধি ॥
মেধা, অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও নিরলস পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এ ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করেছে বানিয়াচং উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী মো. রাইয়ান মিয়া। উপজেলা সদরের চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়ে সে এ গৌরবময় সাফল্য অর্জন করে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রকাশিত ফলাফলে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভের মাধ্যমে রাইয়ান শুধু তার পরিবার নয়, বিদ্যালয় এবং এলাকাবাসীর জন্যও গর্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রাইয়ান উপজেলা সদরের ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের মধ্য যাত্রাপাশা গ্রামের দোকানহাটির বাসিন্দা ধন মিয়া ও সুমা আক্তার দম্পতির প্রথম সন্তান। ছোটবেলা থেকেই তার মেধা, ভদ্রতা, শৃঙ্খলাবোধ ও পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহ শিক্ষক ও অভিভাবকদের দৃষ্টি কাড়ে। সেই ধারাবাহিক নিষ্ঠা ও পরিশ্রমেরই উজ্জ্বল স্বীকৃতি মিলেছে এই ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জনের মাধ্যমে।
রাইয়ানের সাফল্যের পথচলা আজকের নয়। এর আগে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘দারুন নাশাত’ (একটি মানসম্মত মাদরাসা ও স্কুল)-এর নার্সারি শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে সংবর্ধিত হয়। পরে ২০২১ সালে একই প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেও সংবর্ধনা লাভ করে। শৈশব থেকেই তার এই ধারাবাহিক কৃতিত্ব ভবিষ্যতের উজ্জ্বল সম্ভাবনারই বার্তা বহন করছে।
রাইয়ানের এই অসাধারণ অর্জনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, রাইয়ান অত্যন্ত মেধাবী, নম্র, ভদ্র ও পরিশ্রমী একজন শিক্ষার্থী। নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলাবোধ এবং ভালো আচরণের মাধ্যমে সে সবার ভালোবাসা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও সে আরও বড় বড় সাফল্য অর্জন করে বিদ্যালয়, পরিবার এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, সন্তানের এই সাফল্যে আনন্দে আপ্লুত বাবা ধন মিয়া ও মা সুমা আক্তার। আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমত এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক দিকনির্দেশনার ফলেই আমাদের ছেলে আজ এই সাফল্য অর্জন করেছে। আমরা কখনোই শুধু ভালো ফলাফলের স্বপ্ন দেখি না; আমাদের সবচেয়ে বড় ইচ্ছে, রাইয়ান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একজন সৎ, আদর্শবান ও প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক। মানুষের কল্যাণে কাজ করুক, দেশ ও সমাজের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করুক—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। সবাই আমাদের সন্তানের জন্য দোয়া করবেন।”
রাইয়ানের এই কৃতিত্বে পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। একই সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝেও বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। তাদের বিশ্বাস, যথাযথ পরিচর্যা, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং অব্যাহত পরিশ্রম থাকলে রাইয়ান ভবিষ্যতে আরও বড় বড় সাফল্য অর্জন করে দেশ ও জাতির জন্য গৌরব বয়ে আনবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে রাইয়ানের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে, যাতে সে মেধা, মনন ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে এবং আগামী দিনে তার অর্জনের মাধ্যমে বানিয়াচংসহ সমগ্র দেশের মুখ আরও উজ্জ্বল করতে পারে।