স্টাফ রিপোর্টার ॥
বাহুবল উপজেলায় অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন ও মাদক কারবারের সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক ইনকিলাব ও এনপিবি নিউজ -এর বাহুবল উপজেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান নোমান-এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে আরেক সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা সৈবাল এর উপরও হামলা চালান বাহুবল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুর রকিবসহ তার লোকজন।
গতকার বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে বাহুবল ইউএনও অফিসের সিএ এর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমান ও গোলাম মোস্তফা সৈবালকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে বাহুবলের হরিতলা এলাকায় অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন, বালু ও মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক নোমান। এতে ক্ষিপ্ত হন বিএনপি নেতা আব্দুর রকিব। তিনি সাংবাদিক নোমানকে এলাকায় মাদক ও বালু মহাল নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে নিষেধ করেন এবং এসব লিখলে বাহুবলের বদনাম হয় বলে জানান। কিন্তু নোমান আহমেদ সংবাদ অব্যাহত রাখলে রকিব আরও ক্ষিপ্ত হন।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে নোমান আহমেদ পেশাগত প্রয়োজনে ইউএনও অফিসে গেলে আব্দুর রকিব সিএ-এর কার্যালয়ে ঢুকে আচমকা তার ওপর হামলা চালান। হামলায় সাংবাদিক নোমান গুরুত্বর আহত হন। এসময় আহত সাংবাদিক নোমন কে দেখতে গেলে সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা সৈবালের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় নোমান ও সৈবালের শরিলে ও মাথায় গুরুতর জখম হয়। ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলার কর্মরত সাংবাদিক ও সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে, সরকারি দপ্তরে ঢুকে প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিকের ওপর এমন হামলার ঘটনায় বাহুবলসহ পুরো জেলা জুড়ে সাংবাদিক সমাজ ও স্থানীয় সুধীসমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। হামলার সঙ্গে জড়িত বিএনপি নেতা ও বালু খেকো আব্দুর রকিব ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
অভিযুক্ত আব্দুর রকিব বলেন, আমার বিরুদ্ধে বালু ও মাদক কারবারের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি চ্যালেঞ্জ করি এসবের সাথে আমি জড়িত নই। আমি নিজেও সংবাদকর্মী। বাংলাদেশ প্রেসক্লাব বাহুবল উপজেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি এবং হবিগঞ্জের একটি পত্রিকার সাথে জড়িত রয়েছি। মুলত, আমি নোমানের সিনিয়র ও নিকটাত্মীয়। বেয়াদবি করার কারনে তার সাথে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়েছে। আমি তার উপর হামলা করিনি। যার প্রমান সিসিটিভির ফুটেজ দেখলে পাওয়া যাবে। বিষয়টি সন্ধ্যার পর পারিবারিক ভাবে সমাধান হয়েছে’।
এ বিষয়ে বাহুবল প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান মাসুম বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সংবাদকর্মীর ওপর ইউএনও অফিসের ভেতর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আব্দুর রকিব শুধু সাংবাদিক নোমান ও সৈবালের ওপর হামলা করেননি, বরং মুক্ত সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করেছেন। আমরা অবিলম্বে এই চিহ্নিত বালু ও মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় বাহুবলের সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।