শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় সেবা নিতে গিয়ে উল্টো নাগরিকদের ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা, একাধিকবার পৌর কার্যালয়ে যাতায়াত এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসহযোগিতার অভিযোগ করছেন পৌরবাসী। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স শাখাকে ঘিরে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নতুন ট্রেড লাইসেন্স করা কিংবা পুরোনো লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেও নির্ধারিত সময়ে সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন অজুহাতে আবেদনকারীদের একাধিকবার পৌর কার্যালয়ে আসতে বলা হয়। এতে ব্যবসায়ীদের সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার কর-আদায়কারী দেবাশীষ দেব এবং অস্থায়ী হিসেবে কর্মরত আবু তাহের ও সনিকে দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স শাখার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজের জন্য গেলে কখনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবার কখনো অন্য কোনো তথ্যের কথা বলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে একই কাজের জন্য একাধিকবার পৌর কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ট্রেড লাইসেন্স ব্যবসা পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি। সময়মতো লাইসেন্স না পাওয়া বা নবায়ন করতে না পারায় ব্যবসায?িক কার্যক্রমেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। অথচ আবেদন করার পর সেবা পাওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয় না।
পৌরবাসীর অভিযোগ, শুধু ট্রেড লাইসেন্স নয় পৌরসভার বিভিন্ন নাগরিকসেবা পেতেও একই ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্ধারিত ফি সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য না থাকায় সাধারণ মানুষকে বারবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ; কর্মচারীদের কাছে যেতে হয়। এতে অনেকেই হয়রানি ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
নাগরিকদের আরও অভিযোগ, পৌরসভার নাগরিকসেবা সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তির শিকার হলেও দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সীমিত। ফলে অনেকেই অভিযোগ না করে ফিরে যেতে বাধ্য হন। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পৌরসভা হচ্ছে নাগরিকদের সবচেয়ে কাছের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এখানে সেবা নিতে এসে মানুষকে যদি দিনের পর দিন ঘুরতে হয়, তাহলে জনসেবার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। বিশেষ করে ট্রেড লাইসেন্সের মতো নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ সেবায় দীর্ঘসূত্রতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তারা ট্রেড লাইসেন্স শাখার কার্যক্রম খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পৌরসভার সব নাগরিকসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিটি সেবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নির্ধারিত ফি এবং সেবা প্রদানের সর্বোচ্চ সময়সীমা প্রকাশ্যে টানানোর দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।