বানিয়াচং উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষে মো. মোশাহিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ১৩ দিন পর প্রতিপক্ষের কয়েকজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করায় এলাকায় নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আহত হওয়ার ঘটনাটি নিজের ভাইদের সঙ্গে বিরোধের সূত্রে ঘটলেও পরবর্তীতে পুরনো বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার আসামিপক্ষের একজন।
গতকাল মঙ্গলবার হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোশাহিদ মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী মো. মোশাহিদ মিয়া আলমপুর গ্রামের মৃত সজলু মিয়ার ছেলে।
মামলার আসামি মো. বশির মিয়ার অভিযোগ, আলমপুর গ্রামের আলকাছ মিয়ার ছেলে রনি মিয়া, সনি মিয়া, রকি মিয়া এবং হাছন মিয়ার ছেলে কাউছার মিয়ার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমাও রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এ নিয়ে একাধিকবার বিরোধের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বশির মিয়া বলেন- পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় গত সোমবার তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আদালতে ১০৭ ধারায় একটি অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে রনি মিয়া, সনি মিয়া, রকি মিয়া ও কাউছার মিয়াকে প্রতিপক্ষ করা হয়। তার দাবি, মোশাহিদ মিয়া ওই ব্যক্তিদের হয়ে কাজ করেন এবং তাদের পক্ষের একজন হিসেবে বিভিন্ন বিরোধে সক্রিয় থাকেন।
বশির মিয়ার অভিযোগ- সোমবার ১০৭ ধারার ওই মামলার কাজে তিনি আদালতে গেলে রনি মিয়াসহ কয়েকজন তাকে সেখান থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মোশাহিদ মিয়া রনি মিয়াদের পক্ষ হয়ে তাকে (বশির মিয়া), মো. লুৎফুর রহমান, ইকবাল মিয়া ও মো. জহুর আলীকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে বশির মিয়ার দাবি- মোশাহিদ মিয়ার আহত হওয়ার ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, গত ১৮ আগস্ট পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মোশাহিদ মিয়ার সঙ্গে তার আপন দুই ভাই মো. জুনাইদ মিয়া ও মোজাহিদ মিয়ার ঝগড়া ও সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে দুই ভাই মিলে মোশাহিদ মিয়াকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন বলে তার অভিযোগ। এতে মোশাহিদ মিয়ার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
বশির মিয়া আরও দাবি করেন- আপন ভাইদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মোশাহিদ মিয়া আহত হলেও পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধকে যুক্ত করে প্রতিপক্ষকে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, মোশাহিদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে রনি মিয়াদের পক্ষ হয়ে কাজ করছেন। এ কারণে নিজের ভাইদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হওয়ার ঘটনাকেও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন বা তার পরপরই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করে ১৩ দিন পর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ বিলম্ব নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, পুরনো জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও আদালতে চলমান মামলাকে কেন্দ্র করেই নতুন করে তাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে।
এদিকে, মামলার বাদী মো. মোশাহিদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- আলমপুর গ্রামে পৈত্রিক সম্পত্তি ও জমিজমা নিয়ে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে মামলা-মোকদ্দমার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় উত্তেজনাও দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ ১০৭ ধারায় অভিযোগ দায়ের এবং পরবর্তীতে আদালতে নতুন মামলা দায়েরের ঘটনায় বিরোধটি আবারও আলোচনায় এসেছে।
আইনগতভাবে আদালতের নির্দেশের পর মামলাটি থানায় এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন এবং মামলায় আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার সুযোগ রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।