রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের কয়েকটি সড়কে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক
তারিখ: ৮-সেপ্টেম্বর-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

 হবিগঞ্জ শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছিনতাইয়ের আতঙ্ক বাড়ছে। বিশেষ করে রাত ১১টার পর মোহনপুর, ২নং পুল, ঈদগাহ ও পোদ্দার বাড়ি বাইপাস এলাকায় পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের টার্গেট করে একটি চক্র টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাত গভীর হওয়ার পর এসব এলাকায় মানুষের চলাচল কমে যায়। এ সুযোগে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। নির্জন সড়কে একা কাউকে পেলে পথরোধ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। বিশেষ করে পোদ্দার বাড়ি বাইপাস ও ঈদগাহ এলাকার কিছু অংশ রাতে তুলনামূলক নির্জন হয়ে পড়ে। একইভাবে মোহনপুর ও ২নং পুল এলাকাতেও রাতের দিকে পথচারীদের চলাচল কম থাকায় ছিনতাইকারীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধীদের তৎপরতা বাড়ছে। পাশাপাশি রাতে নিয়মিত পুলিশি টহল না থাকায় ছিনতাইকারীরা অনেকটা নির্বিঘ্নে অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাত ১১টার পর জরুরি প্রয়োজনে শহরের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করতে গিয়ে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের মধ্যে আতঙ্ক বেশি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, শনিবার রাতে ওই এলাকার একটি সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন যুবক তার পথরোধ করে। ভয় দেখিয়ে সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে তারা দ্রুত চলে যায়। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করার কথাও জানান তিনি। তবে এ ধরনের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট থানার কাছ থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছিনতাইয়ের পাশাপাশি এসব এলাকায় রাতে মাদক সেবনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও চলে। এতে সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষের চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে।
এ অবস্থায় মোহনপুর, ২নং পুল, ঈদগাহ ও পোদ্দার বাড়ি বাইপাস এলাকায় রাতের পুলিশি টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি স্থাপন এবং পর্যাপ্ত সড়কবাতির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হবে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চক্রকে দায়ী করার আগে পুলিশি তদন্ত ও মামলার তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।