হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান আশিক মানবতার উদাহরণ এক মানবিক কন্ঠশিল্পী
তারিখ: ১৪-জুন-২০২০
স্টাফ রিপোর্টার ॥

হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান কন্ঠ শিল্পী আশিক। চ্যানেল আই সেরা কন্ঠ প্রতিযোগীতার মাধ্যমে ২০০৮ সালে মিডিয়াতে আসেন তিনি। এর পর থেকে তিনি এখন সকলের কাছে হয়ে উঠেন প্রিয় পাত্র। এখন সে কারো কাছে পাগলা আশিক আবার কারো কাছে মানবিকতার উদাহরন আশিক ভাই হিসেবে পরিচিত। সংগীত প্রেমীরা তাকে ভালবেসে ফোক যুবরাজ বলেই ডাকে। আর এর মুল কারণ, ইউটিউবে ঢুকলেই দেখা যায় আশিকের প্রতিটা গান মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ। মুলতো বর্তমান সময়ে শাহ আব্দুল করিমকে নিয়ে আশিক কাজ করছেন। অনেকেই শাহ আব্দুল করিমের গান মানেই আশিক বলেও মন্তব্য করতে দেখা যায়।

তার গাওয়া "বন্ধুরে কই পাব সখি", ''মাটিরও পিঞ্জিরায় সোনার ময়না", 'তুমি রাখ কিবা মার", 'কলিজাতে দাগ লেগেছে" আইজ আমারে আনিয়া দেওরে আসমানেরও চান", 'হেলায় হেলায় কার্য নষ্ট", 'দে দে পাল তুলে দে", 'দিল্লিতে নিজামুদ্দিন আওলিয়া গান গুলো এখন খুবই জনপ্রিয়।

এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ বার বিদেশের মাটিতে কনসার্ট করে দেশের সুনাম বয়ে এনেছেন এই কণ্ঠশিল্পী। এর মধ্যে তিনি ইংল্যান্ডে গিয়েছেন ৮ বার, কানাডায় ৪ বার আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ইতালি বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, দুবাই, কাতার বাহরাইন, সৌদি ও আরবসহ বিশ্বের বড় সব গুলো দেশেই গিয়েছেন। এতে গানে গানে অর্জন করছেন ফোক যুবরাজ হিসেবে নিজের ব্যক্তিত্ব। শুধু তাই নয়, কন্ঠশিল্পী আশিককে মানবতার ফেরিওয়ালাও বলা যায়। করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি নিজ বাড়ি হবিগঞ্জে।

লকডাউনের শুরু থেকে তিনি হবিগঞ্জের স্থানীয় শিল্পী মিউজিশিয়ান্সদের পাশে থেকে কাজ করে আসছেন। তাদের বিভিন্নভাবে করছেন সহযোগিতা। কখনো নিজের জমানো টাকা খরচ করছেন আবার কখনো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে শিল্পীদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে আশিক ঘোষনা দিয়েছেন, যে তিনি জীবিত থাকতে হবিগঞ্জের কোন শিল্পী মিউজিশিয়ান্সদের না খেয়ে মরতে দিবেন না।

এ পর্যন্ত অসংখ্যবার আশিকের হস্তক্ষেপে শিল্পীদের হাতে খাবার সামগ্রী পৌছে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে আশিক বলেন, এ সহযোগিতা কিছুই না, ইনশাআল্লাহ যতদিন লকডাউন থাকবে, ততদিনই আমি শিল্পীদের পাশে থাকবো কথা দিচ্ছি'।

তবে এই ব্যাপারে আমাকে সব সময় সহযোগীতা করছেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ এডঃ আলহাজ্ব মোঃ আবু জাহির এম পি। তিনি সব সময় আমার সাথে যোগাযোগ করে তিনি শিল্পীদের খোজ খবর নিচ্ছেন'। শুধু মানবিক নয় একজন প্রতিবাদী কন্ঠশিল্পী আশিক। বাউল গান যারা বিকৃত করে তাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার তিনি। আশিক এ ব্যাপারে বিভিন্ন টেলিভিশন ও নিজের ভেরিফাইড ফেইজ বুক পেইজে সব সময় বিকৃতিকারীদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি দিয়ে আসছেন।

কিছুদিন আগের আলোচিত বিষয় বাউল রনেশ ঠাকুরের গানের ঘর পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলেন নিজের ফেইসবুক পেইজে পোস্টের মাধ্যমে। এই পোস্টটি শুধুমাত্র শেয়ারই হয় প্রায় ১৭০০ বার।

তার পর বাউল রনেশ ঠাকুরের পুড়ে যাওয়া সেই গানের ঘর নির্মানের জন্য লন্ডন প্রবাসী নজরুল ইসলামের কাছ থেকে ১০০,০০০ টাকা সহযোগিতা নিয়ে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দুর বাউল রনেশ ঠাকুরের বাড়িতে গিয়ে ওই টাকা তুলে দেন। আশিক তখন বলেন, 'যারা মানবতার গান গাওয়া বাউল দের উপর অন্যায় ভাবে নির্যাতন করবে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে'। এছাড়াও  তিনি বাউলের গানের ঘর পোড়ানোর সাথে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী করেন। আশিক বর্তমান সময়ে উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন। সংগীত শিল্পী ও শুভাকাঙ্খিরা তার  উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। তারা বলছেন, 'বেচে থাকুক মানবতার গান আর মানবিক কন্ঠশিল্পী আশিক।

প্রথম পাতা