স্টাফ রিপোর্টার ॥
জেলাজুড়ে শীতের তীব্রতা বাড়লেও কৃষকরা বোরো ধানের চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী শীত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। রোপা আমনের ফসল তোলা শেষ হবার পর জেলার ৯ উপজেলার কৃষকরা বীজতলা থেকে বোরোর চারা উত্তোলন করে রোপন করছেন। আবহাওয়া শীতল থাকায় মাঠের কাজ কষ্টকর হলেও পুরুষ, নারী ও শিশু মিলিয়ে তারা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও কিছুটা শ্রমিক সংকটও দেখা দিয়েছে। শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশার কারণ অনেক শ্রমিক মাঠে নামতে চান না।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৩০০ হেক্টরে। কৃষকরা জমি সারানো, চারা রোপণ ও আগাছা পরিষ্কারে ব্যস্ত। আশা করা হচ্ছে, ধানের উৎপাদন ৫ লাখ মেট্রিক টনের বেশি হবে।
শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপ এবং পশ্চিমবঙ্গ- উপমহাদেশীয় উচ্চচাপের কারণে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং রাতের তাপমাত্রা কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলার হিলালপুর গ্রামের কৃষক ওয়ারিশ মিয়া, সকালে শীতের তীব্রতা কারনে কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে। তাও ফলনের আশায় কাজ করছি আমরা।
শিবপাশার সামছুল আলম বলেন, পরিবারের ৩ জন মিলে জমিতে কাজ করছি। যদিও ভোর সকালে কাজে লেগে যাওয়ার কথা পানি ঠান্ডা থাকার কারনে বিলম্ব হচ্ছে।
বাহুবল উপজেলার হাফিজপুর গ্রামের তোহেল মিয়া বলেন, রোপানের কাজ পুরোটাই পানি ও কাঁদার মধ্যে করতে হয়। শীতের তীব্রতায় আমাদের বোরো চাষের কষ্ট বেড়ে গেছে।
জেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মুরাদ আহমেদ বলেন, ‘জেলার ৯টি উপজেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেভাবে কৃষকরা মাঠে কাজ করছেন এতে উৎপাদন অনেকটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।