‘খোয়াই নদীর পাড় থেকে উদ্ধার শিশু মাহবুবকে ঘাড় মচকে হত্যা করা হয়’
তারিখ: ১১-জানুয়ারী-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

 নিখোঁজের তিন দিন পর মাদ্রাসাছাত্র রাজি ইবনে মাহবুব (১০)-এর ক্ষতবিক্ষত ও চোখ উপড়ানো লাশ উদ্ধারকে ঘিরে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডে একমাত্র সন্তান হারিয়ে পিতা-মাতা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তারা। সন্তানহারা পরিবারের কান্না যেন ভারী করে তুলেছে পুরো শহরের বাতাস। নিহত রাজি ইবনে মাহবুব সদর উপজেলার রিচি মোহাম্মদীয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মাহবুবুর রহমানের একমাত্র ছেলে। সে শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত দারুন নাজাত হিফজুল কুরআন মাদ্রাসার নিয়মিত ছাত্র ছিল। ছোট্ট এই হাফেজ ছাত্রের এমন নৃশংস মৃত্যুতে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রাজিকে ঘাড় মচকে হত্যা করা হয়েছে, যাতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি তার দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডকে আরও ভয়াবহ ও রহস্যজনক করে তুলেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে ধুলিয়াখাল খোয়াই নদীর পাড়ে চর এলাকায় পড়ে থাকা লাশটি স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে সদর থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তমাখা লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজি ইবনে মাহবুব গত ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার আসরের নামাজের পর মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকেই পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বত্র খোঁজাখুঁজি চললেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে নিরুপায় হয়ে তার বাবা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিন দিন পর সেই নিখোঁজ সন্তানের লাশ উদ্ধার হওয়ায় শোক রূপ নেয় সীমাহীন কান্নায়।
ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর শহরের প্রতিটি মসজিদে নিহত শিশু রাজি ইবনে মাহবুবের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে কাজ করলেও এখনো প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হয়নি। সহপাঠী, মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ ও এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সদর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি পুলিশ সুপার মহোদয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গুরুত্ব সহকারে দেখছেন।” অচিরেই রহস্য উদঘাটন করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। এক নিষ্পাপ শিশুর এমন করুণ পরিণতি সমাজকে নাড়া দিয়েছে। রাজির নিষ্পাপ মুখ আর তার স্বপ্নমাখা চোখ কেড়ে নেওয়া এই নির্মমতার বিচার কবে হবে সেই প্রশ্নই এখন সবার।