মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার যুবলীগ নেতা শেখ মো. বাহার মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ী বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে পালিয়ে গেছেনÑএমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের শাহপুর (আলী নগর) গ্রামের মৃত উনু মিয়ার ছেলে শেখ মো. বাহার মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের শাহপুর এলাকায় একটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে “মা এন্টারপ্রাইজ” নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি নোয়াপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দোকানঘর ও ব্যবসায়িক পুঁজি দেখিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও সংস্থা থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ উত্তোলন করেন। এর মধ্যে রূপালী ব্যাংক মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া শাখা থেকে ২৫ লাখ টাকা, আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ১২ লাখ টাকা, বীজ অফিস থেকে ৬ লাখ টাকা, আশা ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, টিএমএসএস ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ইনডেভার ব্যাংক থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, হবিগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থা থেকে ৪ লাখ টাকা এবং র্ব্যাক ব্যাংক জগদীশপুর শাখা থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দাবি, ঋণের টাকা পরিশোধ না করেই ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপরই শেখ মো. বাহার মিয়া সৌদি আরবে পালিয়ে যান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ মো. বাহার মিয়ার নিজ নামে কোনো বসতভিটা বা কৃষিজমি নেই। তিনি একই ইউনিয়নের শাহপুর (আলী নগর) গ্রামের মো. রহমত আলীর মেয়ে মোছা. হাবিবা খাতুনকে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে তার মা সায়েরা খাতুনকে নিয়ে বসবাস করতেন। শেখ মো. বাহার মিয়ার মামা শ্বশুর হলেন মো. রহমত আলী। তিনি বিদেশে চলে যাওয়ার পর তার পরিবার বর্তমানে মামা শ্বশুর মো. রহমত আলীর সহযোগিতায় সংসার পরিচালনা করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে আরও অভিযোগ উঠেছে, শেখ মো. বাহার মিয়া বিদেশে ভালো কোম্পানির ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। নোয়াপাড়া ইউনিয়নের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এভাবে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকা আদায় করেছেন।
অপরদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানি, মিথ্যা অপবাদ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে প্রতারক শেখ মো. বাহার মিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।