হবিগঞ্জ-১ আসনে সিদ্ধান্তে অটল সুজাত ॥ চাপ বাড়ল ড. রেজার
তারিখ: ১২-জানুয়ারী-২০২৬
আখলাছ আহমেদ প্রিয় ॥

হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনে নির্বাচনকে ঘিরে কয়েকদিন ধরে বইছে গরম হাওয়া। শীত উপেক্ষা করে মিলাদ মাহফিলসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। যদিও শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত নির্বাচন করবেন কি-না? এমন আলোচনা ছিল সর্বত্র। নিজের দলের মনোনীত (বিএনপি) হেভিওয়েট প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া মাঠে থাকায় নির্বাচন থেকে তিনি সরে যাবেন এমনটাই প্রত্যাশা ছিল নেতা-কর্মীদের। তবে নিজের প্রার্থীতায় অনড় শেখ সুজাত। গত শনিবার রাতে ঢাকায় গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তার বৈঠকেও প্রার্থীতা প্রত্যাহারের বিষয়টি সুরাহ হয়নি। দলের সর্বোচ্চ নেতাদের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে নিজের সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছেন তিনি। শেষমেষ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন শেখ সুজাত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেখ সুজাত নিজেই। গতকাল রোববার রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচারকে নিশ্চিত করেছেন তিনি। 
দলীয় সূত্র জানায়, এর আগে শনিবার ঢাকায় গুলশান কার্যালয়ে শেখ সুজাতের সাক্ষাৎকালে তারেক রহমান তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তবে শেখ সুজাত মিয়া তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। এ সময় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুগ্ম মহাসচিব ড. হুমায়ুন কবির এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জি কে গউছ উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎ শেষে হবিগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে নবীগঞ্জ ও বাহুবলের মানুষের কল্যাণে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন’। কিন্তু দলের কাছে জনগণের আশা-আকাঙা, ভালোবাসা ও প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন হয়নি বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান তাঁর রাজনৈতিক নেতা। তিনি ডেকেছেন বলেই ঢাকায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন’। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নির্দেশে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলেন। সেই ত্যাগের বিষয়টিও তিনি এবারের সাক্ষাতে তুলে ধরেছেন। 
এদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার নির্বাচনে অংশ নেয়াকে কেন্দ্র করে বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলায় শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। একই দলের (বিএনপি) দুই প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে পারে জামায়াত। ড. রেজা ও শেখ সুজাতের মধ্যে ভোটের ভাগাভাগি হলে চমক দেখাতে পারেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শাজাহান আলী। ভোট বিশ্লেষনে বর্তমান অবস্থানে তারা ৩ জনই রয়েছেন শীর্ষ আলোচনায়। 
সূত্র জানায়, তপশীল ঘোষনার পর থেকে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ড. রেজা কিবরিয়া। পেয়েছেন বিএনপির মনোনয়নও। তার বাবা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ওই আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী তিনি। ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন বিএনপির এই প্রার্থী। অন্যদিকে, দলের দুর্দিনে নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে আস্থা-বিশ^াস অর্জন করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত। রাজনীতিতে সক্রিয় অবস্থান থাকায় এবার নির্বাচনী এলাকায় ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত তিনি। নির্বাচনে জনগন তার ত্যাগের মূল্যায়ন করবেন এমন আশায় তিনি ভোটের মাঠ ছাড়তে নারাজ। সাধারণ ভোটারদের মতে, দুজনই জনপ্রিয় ও হেভিওয়েট প্রার্থী। নিয়মিত ভোটের মাঠে আলোচনায় রয়েছেন তারা। শেষ পর্যন্ত শেখ সুজাত নির্বাচনী মাঠে থাকলে তারা দুজনের মধ্যেই হতে পারে হিসাব-নিকাশ। অন্যদিকে, ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান আলী। নির্বাচনী এলাকায় তাকে নিয়েও রয়েছে বেশ জল্পনা-কল্পনা। 

প্রথম পাতা