খালেদা জিয়ার শিখানো পথেই আমাদের হাঁটতে হবে- জিকে গউছ
তারিখ: ১৪-জানুয়ারী-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

 হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও টানা ৩ বারের নির্বাচিত হবিগঞ্জ পৌরসভার পদত্যাগকারী মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন- মানুষকে ভালবাসলে, মানুষের জন্য কাজ করলে, মানুষও কতটা ভালবাসে তার প্রমাণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা। তাই খালেদা জিয়ার শিখানো পথেই আমাদের হাঁটতে হবে। আমরা যেন কেউ ভুলেও প্রতিহিংসা পরায়ন না হই। আমার যেন ভিন্ন মত, ভিন্ন পথ ও ভিন্ন ধর্মের মানুষকে অসম্মান না করি। আমরা যেন কাউকে মিথ্যা মামলায় আসামী বানিয়ে অর্থ বাণিজ্য করার চেষ্টা না করি। আমরা যেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই। যারা অন্যায় করেছে, জুলুম করেছে, নিজের হাত রক্তে রঞ্জিত করেছে, যারা জনগণের সম্পদ চুরি বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছে, তাদের বিচার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে, এটা আমরা প্রত্যাশা করি।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার বিকালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ২নং রিচি ইউনিয়নের সুলতান মাহমুদপুর দক্ষিণপাড়া ঈদগা ময়দানে ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির শোকসভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় এই শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে জি কে গউছ আরও বলেন- বিনা অপরাধে ৬ বছর খালেদা জিয়া কারাবন্দি ছিলেন, অপমান অপদস্থ হয়েছেন, কিন্তু উনার মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা ছিল না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সহ আওয়ামীলীগ পালিয়ে যাওয়ার পর দেশে ৩ দিন কোনো সরকার ছিল না। খালেদা জিয়া হাসপাতাল থেকে ৩ মিনিটের একটি অডিও বার্তা দিয়ে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানালেন, আমরা যেন অতিত ভুলে যাই, আমরা যেন প্রতিহিংসা পরায়ন না হই, ভিন্ন মত ভিন্ন পথের মানুষের প্রতি অশুভন আচরণ না করি, আমরা যেন মানুষকে সম্মান করি, ভালবাসার হাত সম্প্রসারিত করি। দেশের পরিবেশ পরিস্থতি যেন অস্থিতিশীল না হয়, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব যেন হুমকির মুখে না পড়ে। খালেদা জিয়ার এই আহবানে দেশ শান্ত হয়েছিল। বিএনপির নেতাকর্মীরা অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় রাস্তায় নেমেছিল, দেশকে শান্ত রেখেছিল। খালেদা জিয়ার এই ত্যাগ যেন আমরা ভুলে না যাই।
তিনি বলেন- গত ১৭ বছর কিছু মানুষ এতটা বেপরোয়া ছিল, তারা একতলা বাড়ি ৬ তলা করেছে, কিন্তু আজ তাদের বাড়িতে সন্ধ্যা বাতি জ্বালানোর লোক আল্লাহ অবশিষ্ট রাখেননি। এখান থেকে আমাদের শিখতে হবে। যারাই অন্যায় করেছে, সীমালঙ্গণ করেছে, আল্লাহ তাদের ছাড়েননি। জি কে গউছ বলেন- বাংলাদেশের মানুষ অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে ভোট সেন্টারে যাবে, নিজের ভোট নিজে দিবে, পছন্দের প্রার্থীকে দিবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজের ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য রক্ত দিয়েছে কারো গোলামী করার জন্য নয়। তাই যারা নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, মানুষকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা করছে তাদের বিষয়ে আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে।
সরদার আব্দুর রেজ্জাকের সভাপতিত্বে এবং মহসিন সিকদার ও সাইফুল ইসলাম রকির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক হাজী এনামুল হক ও এডভোকেট এনামুল হক সেলিম, এম জি মোহিত, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান কাজল, সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম মতিন, পৌর বিএনপির সভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক এস এম আওয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক মর্তুজা আহমেদ রিপন, জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এস এম বজলুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক ইমরান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগন, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মাহবুব, জেলা মহিলাদলের সিনিয়র সহ সভাপতি নুরজাহান বেগম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা লাভলী সুলতানা, রিচি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী সামছু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফরিদুজ্জামান রনি, ডাঃ একেএম নুরুজ্জামান আরজু সরদার, রহমত আলী সরদার, একেএম রুস্তম আলী সরদার, আব্দুল ওয়াহাব আনজব সরদার, শাহিন আহমেদ সরদার, লেচু মিয়া সরদার, বাচ্চু মিয়া সরদার, মন্নর আলী, ফরিদ মিয়া, দেলোয়ার হোসেন দিলু, কামাল সিকদার, আবুল কালাম আজাদ, সামছু মিয়া, সিরাজুল ইসলাম মহরী, আক্তারুজ্জামান সেলিম, এডভোকেট আজিজুর রহমান, নুরুল হক লিটন, সাহাব উদ্দিন, মাসুক ভান্ডারী, আব্দুল খালেক, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তক, আব্দুল মজিদ, মাকসুদুর রহমান উজ্জল, আবুল বাশার জুমন, এমদাদুল হক হিরু, রুয়েল আহমেদ, মশিউর রহমান, রাশেদুজ্জামান রকি, অলিউর রহমান রিকন, সোহাগ আহমেদ, তৈয়ব আলী, শেখ রাসেল, আরিফুল ইসলাম আরিফ, আফজল আহমেদ, আবু সাইয়িদ, পিয়াশ প্রমুখ।