স্টাফ রিপোর্টার ॥
শায়েস্তাগঞ্জে আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছিদ্দিক আলী ওরফে ছিদ্দিকুর রহমান হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বরাবর জরুরি ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের (আবেদন করেছেন। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অলিপুর মৌজায় অবস্থিত এস.এ ১২৫ খতিয়ানের ১৮৭ দাগভুক্ত জমির বৈধ মালিক ও দখলদার তিনি। তার মা সমর চান বিবির মৃত্যুর পর তিনি ও তার ভাই হাবিবুর রহমান যৌথভাবে জমিটি ভোগ করে আসছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজের অংশের কিছু জমি বিক্রি ও দান করলেও বর্তমানে প্রায় ২৯ শতক জমি তার দখলে রয়েছে। সর্বশেষ আর.এস জরিপে তার নামে উক্ত জমির তসদিক পরচা প্রদান করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ছালেক মিয়া, ফজল মিয়া, রুবেল মিয়া, শামীম মিয়া, নাছির মিয়া, মিজানুর রহমান, শহিদ মিয়া, ফরছু মিয়া, কদ্দুছা বেগম, আরজা, সানু মিয়া, ফুরুক মিয়া, জয়নাল মিয়া, সাজেদুল ইসলাম চৌধুরী, মিনারা বেগম, ডা. জিতেন্দ্র দেবনাথ, মো. আপন চৌধুরীসহ ১৫/২০ জন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে তার জমি জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে স্বত্ব মামলা দায়ের করলে আদালত স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া ল্যান্ড সার্ভে আদালতে রেকর্ড সংশোধনের মামলাও চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একাধিক মামলা ও আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা তার জমির ভেতরে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ বিষয়ে গত ১১ জানুয়ারি তিনি পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরদিন ১২ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত ১৩ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের বাড়ির সামনে কয়েকজন বিএনপি নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে, তার ছেলে ও নাতিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। যেকোনো সময় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, অবৈধ নির্মাণ স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।