স্টাফ রিপোর্টার ॥
হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজারের খোয়াই মুখ এলাকায় ব্যবসায়ীর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করতে গিয়ে শীর্ষ চাঁদাবাজ এনামুল হক সাকিবসহ ৪ জন জনতার হাতে ধরাশায়ী হয়েছেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে জনতা তাদের আটক করে বিক্ষোভ করেন। শীর্ষ চাঁদাবাজ এনামুল হক সাকিব শহরতলীর উমেদনগরের আব্দুল মতিনের ছেলে ও বৈষম্যবিরোধি ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক। আটককৃত অন্যান্যরা হলেন, এনামুল হক সাকিবের চাচা আনোয়ার মিয়া, একই এলাকার পুরান হাটির শাহ আলমের ছেলে মোঃ শিহাব আহমেদ ও নসরতপুরের আব্দুল কাইয়ূমের ছেলে মোঃ মোশারফ। এদিকে, শহরের চিহ্নিত চাঁদাবাজ এনামুল হক সাকিব আটকের খবর রাতে ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে স্তস্তি ফিরে এসেছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তার মব সন্ত্রাসী ও হুমকি-ধামকির ভয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অতিষ্ট ছিলেন।
জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন পূর্বে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে চৌধুরী বাজারের খোয়াই মুখ এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শেখ জামাল অটোমেটিক ফ্লাওয়ার মিলস এর স্বত্ত্বাধিকারী শেখ জামাল মিয়াকে মব সন্ত্রাসীর হুমকি-ধামকি দিয়ে ৪৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সাকিব। এর কিছু দিন যেতে না যেতেই সে আবারও ওই ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে আসছিল । গতকাল রাত ১০ টার দিকে সাকিবের নেতৃত্বে শিহাব ও মোশারফসহ ১০/১২ জনের একদল দূূর্বৃত্ত শেখ জামাল মিয়ার দোকানে গিয়ে তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদাদাবী করে। এ সময় টাকা না দিলে আওয়ামীলীগের দোসর পরিচয়ে ওই ব্যবসায়ীকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় তারা। বিষয়টি তাৎক্ষনিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা সেখানে ভীড় করে তাদেরকে আটক করে রাখেন। বিষয়টি জানতে পেরে এনামুল হক সাকিবের চাচা মোঃ আনোয়ার মিয়া তাকে ছাড়াতে গিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে হুমকি দিলে জনতা তাকেও আটক করেন। উত্তেজিত জনতা তাদের শাস্তির দাবী জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর সেনাবাহিনীর একটি দল তাদের আটক করে নিয়ে আসে। পরে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় তাদের হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী। এছাড়া এনামুল সাকিবের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মব সন্ত্রাসীর হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের মহিলা কলেজ রোড এলাকায় এনামুল হক সাকিবের নেতৃত্বে কয়েকজন চাঁদাবাজ বাবুল হরিজনের কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার বাসায় হামলা ও ভাংচুর চালায়। এ সময় বাবুল ও এক মহিলাকে মারধোর করে তারা। তাদের চিৎকারে হরিজন সম্প্রদায়ের নারী পুরুষ এসে দুই জনকে আটক করে। এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে সাকিবসহ অন্যান্যরা পালিয়ে যায়। তখন স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা সাকিবের নেতৃত্বে তারা এখানে এসেছে বলে জানায়।
সাকিব নিজেকে বৈষম্যবিরোধি ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে সে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে তার নেতৃত্বে একটি চক্র চাঁদাবাজি করে আসছে। মামলার ভয় দেখানো, ডেভিল হিসেবে মানুষকে ধরিয়ে দেয়াসহ নানান ভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই চক্রটি। ইতোপূর্বেও ওই চক্রের অনেকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যায়। কিন্তু আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। তাদের টার্গেট হচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন। সাকিব ও তার বাহিনীর ভয়ে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ আতঙ্কে ছিলেন।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদাদাবীর অভিযোগে সেনাবাহিনী ৪ জনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে’।