একটি নষ্ট, অন্যটি অচল অপারেটর থাকলেও নেই সেবা
তারিখ: ৩১-জানুয়ারী-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে লিফট সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ৮ তলা বিশিষ্ট এই সরকারি হাসপাতালে রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি লিফট। এর মধ্যে একটি লিফট দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় আছে, আর যে লিফটটি সচল রয়েছে সেটিও প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী ও তাদের স্বজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য লিফট সংকট ভয়াবহ সমস্যা তৈরি করেছে। স্ট্রেচার বা হুইলচেয়ারে করে রোগী বহন করতে গিয়ে স্বজন ও কর্মচারীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় রোগীকে কোলে করে কিংবা সিঁড়ি বেয়ে একাধিক তলা উঠানামা করাতে হচ্ছে, যা রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুটি লিফটের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকলেও তা মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে যে লিফটটি চালু রয়েছে, সেটিও নির্দিষ্ট সময় পরপর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। কখনো বিদ্যুৎ সমস্যার অজুহাত, কখনো যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে লিফট বন্ধ রাখা হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো হাসপাতালে লিফট পরিচালনার জন্য দুইজন অপারেটর পদে কর্মচারী নিয়োজিত থাকলেও তারা নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। অভিযোগ রয়েছে, ওই দুই অপারেটর দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন না করলেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন। ফলে লিফট পরিচালনা ও তদারকির দায়িত্ব কার্যত অনুপস্থিত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, “অপারেটর না থাকায় লিফটের নিয়মিত তদারকি হয় না। এতে যান্ত্রিক সমস্যা আরও বাড়ছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” রোগীর স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালে এসে চিকিৎসার জন্যই কষ্টে আছি, তার ওপর এই লিফট সমস্যায় ভোগান্তি চরমে। সরকারি হাসপাতালে এমন অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া যায় না।” হাসপাতালে ভর্তি এক বৃদ্ধ রোগীর ছেলে বলেন, “আমার বাবাকে তিনতলায় নিতে হয়েছে। লিফট বন্ধ থাকায় চারজন মিলে কোলে করে সিঁড়ি দিয়ে উঠিয়েছি। যদি পথে কিছু হতো, তার দায় কে নিত?” এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদাসীনতা ও তদারকির অভাবে লিফট সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত নষ্ট লিফটটি মেরামত, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত অপারেটরদের কর্মস্থলে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল জেলার মানুষের প্রধান ভরসাস্থল। সেখানে এমন অব্যবস্থাপনা স্বাস্থ্যসেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রথম পাতা