জাকারিয়া চৌধুরী/
বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-১ আসন। জেলার ৪টি আসনের মধ্যে সবছেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে হবিগঞ্জ-১ আসনকে ঘিরে। কারণ আসনটিতে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার বিপরীতে ভোট যুদ্ধে লড়ছেন একইদলের বিদ্রোহী প্রার্থী আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া। শেখ সুজাত জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক (বহিস্কৃত) ও সাবেক এমপি। একই আসনে একই দলের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে লড়াই করায় ভোটের মাঠ জমজমাট হলেও স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা হয়ে পড়েছেন বিভক্ত। পদ হারানোর ভয়ে অনেক নেতা মাঠে রেজার সঙ্গে থাকলেও অনেক কর্মীদের আবার দেখা গেছে সুজাতের সঙ্গে। যে কারণে আসনটিতে রেজা ও সুজাতের জমজমাট এক লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে অন্য কোন দলের হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকলেও নিজদলের সুজাতই এখন গলার কাটা। আসনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামির কোন প্রার্থী নেই। ১১ দলের জোটের হয়ে লড়াই করছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।
জানা যায়- হবিগঞ্জ-১ আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার ও আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া ছাড়াও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা, জাতীয় সমাজ তান্ত্রিকদল বাসদ এর প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ। তবে ভোটের মাঠে রেজা-সুজাত ছাড়া অন্য কোন প্রার্থীর তেমন আলোচনায় নেই। প্রথম দিকে মনোনয়ন পত্র দাখিলকালে সুজাতকে নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা ও প্রার্থীতা প্রত্যাহার নিয়ে গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠেই রয়ে গেছেন সুজাত। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ সুজাতকে নিয়ে বৈঠকে বসলেও হয়নি সুরাহা।
বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানায়- ড. রেজা কিবরিয়া ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী। দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। তাই দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ধানের শীষের প্রার্থীকেই বিজয়ী করতে হবে। তবে অনেক কর্মী ও ভোটাররা আবার মনে করেন- নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনে শেখ সুজাত মিয়া একজন বিএনপির পরীক্ষিত সৈনিক। দল তাকে মনোনয়ন না দিলেও সে দীর্ঘদিন যাবত দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছে। যে কারণে তৃণমূলে তার বহু কর্মী সমর্থক রয়েছে। রয়েছে এলাকা ভিত্তিক বিষয়টিও। যদিও রেজা ও সুজাত উভয়ের দাবী- দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে রয়েছেন। সাধারণ ভোটাররা বলছেন- উন্নয়নের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয়, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকেই নির্বাচিত করতে চান তারা।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া বলেন- বিএনপি একটি বড় দল। দল আমাকে ধাষের শীষ প্রতীক দিয়েছে। এর আগেও আমি ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছিলাম। তখনকার কি পরিস্থিতি ছিল সাবাই জানে। তবে এখন সময় বদলে গেছে। নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনের বিএনপির সকল নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছে। সবাই ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। তিনি বলেন- আমি আমার কর্মী ও জনগণের থেকে যে ভালবাসা পাচ্ছি ইনশাআল্লাহ বিজয় সুনিশ্চিত। বিদ্রোহী প্রাথী প্রসঙ্গে রেজা বলেন- আমার আসনে বিদ্রোহী একজন আছেন। তবে সে গুরুত্বপূর্ণ কোন ভূমিকা পালন করতে পারবে না।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া বলেন- আমি সাধারণ জনগণের ভালাবাসা থেকে প্রার্থী হয়েছি। তৃণমূলে আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তারাই আমাকে প্রার্থী করেছে। নিজ দল প্রসঙ্গে সুজাত বলেন- গুটি কয়েকজন নেতা বাদে দলের সকলেই আমার সঙ্গে রয়েছেন। রেজা কিবরিয়া আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন- জনগণ আমাকেই ভোট দিয়ে জয়জযুক্ত করবে।
হবিগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ ও পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছে ৫ জন। এখন শেষ পর্যন্ত দেখার বিষয়টি জনগণ কাকে নির্বাচিত করে কে হাসে বিজয়ের হাসি।